নয়াদিল্লি : বিতর্ক পিছু ছাড়ছিল না। অবশেষে এক সপ্তাহ পর পতঞ্জলির করোনিলকে বিক্রি করার ছাড়পত্র দিল আয়ুষ মন্ত্রক। বাজারে এবার থেকে পাওয়া যাবে করোনিল, তবে করোনা সারানোর দাওয়াই হিসেবে নয়। ইমিউনিটি তৈরি করার ওষুধ হিসেবে এই করোনিলকে মান্যতা দেওয়া হল। বুধবার আয়ুষ মন্ত্রক করোনিলকে ছাড়পত্র দিয়েছে।

ইমিউনিটি বাড়ানোর ওষুধ হিসেবে এর প্রচার করতে হবে বলে শর্ত রেখেছে আয়ুষ মন্ত্রক। কোনও ভাবেই করোনা সারানোর ওষুধ হিসেবে এর নাম নেওয়া যাবে না। যোগগুরু রামদেবের সংস্থা পতঞ্জলিও জানিয়ে দিয়েছে এবার করোনিল বিক্রিতে আর কোনও বাধা নেই। আয়ুষ মন্ত্রকের কাছ থেকে ছাড়পত্র পেয়ে খুশি পতঞ্জলি।

হরিদ্বারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই সংস্থা জানিয়েছে, ইমিউনিটি বাড়াবার ওষুধ হিসেবেই এটি ব্যবহার করা হবে ও প্রচার করা হবে। করোনিল সম্পর্কে বলতে গিয়ে পতঞ্জলির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ওষুধ খুব সহজেই এবার বাজারে মিলবে। এর সাথে খেতে হবে আরও দুটি ওষুধ। তবেই ইমিউনিটি বাড়াবার প্রক্রিয়া সহজ হবে।

এর আগে, যোগগুরু রামদেব জানিয়ে ছিলেন কোনও করোনা আক্রান্ত রোগিকে যদি করোনিল দেওয়া হয়, তবে ১০০ শতাংশ সুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ওষুধ তৈরি হয়েছে অশ্বগন্ধা, গিলয় বা গুলঞ্চ ও তুলসী দিয়ে, বলে জানিয়েছে পতঞ্জলী। বালকৃষ্ণ এই বিষয়ে একটি ট্যুইট করেন।

তিনি লেখেন, সর্বপ্রথম করোনার ওষুধ বাজারে আনতে পেরে গর্বিত। করোনিল মঙ্গলবার বেলা ১২টার সময় হরিদ্বারে পতঞ্জলী যোগপীঠে লঞ্চ করা হবে। বালকৃষ্ণ দাবি করেছিলেন, এই আয়ুর্বেদিক ওষুধটি করোনা রোগিদের পাঁচ থেকে চোদ্দ দিনের মধ্যে সারিয়ে তুলবে। এটাও জানানো হয়েছিল যে ২৮০ জন করোনা রোগির ওপর পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়েছে পতঞ্জলি। প্রত্যেকেই এই ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। এরপরেই বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে পুরোপুরি ইউ টার্ন নিয়ে এই সংস্থার এবার দাবি তাঁরা শুধু মিডিয়ার সামনে ট্রায়াল কিট এনেছিলেন করোনিলের। তাঁদের দাবি ছিল এটা করোনা সারাবে না। এরকম কোনও ওষুধই তাঁরা বের করেননি। তাঁদের বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। উত্তরাখন্ড ড্রাগ ডিপার্টমেন্টের জারি করা বিবৃতি খারিজ করে পতঞ্জলি করোনা কিট নামে কোনও ওষুধই তাঁরা বের করেননি।

এটাও প্রচার করেননি যে তাঁদের তৈরি ওষুধ করোনা সারাবে। পতঞ্জলি দাবি করে তাঁরা যে ওষুধ তৈরি করেছে, তাঁর বাণিজ্যিকরণ এখনও হয়নি। ফলে কোনও আয় তারা এই ওষুধ থেকে করেননি। করোনিল কিট নামের কোনও ওষুধও তাঁরা বিক্রি করেননি। যা মিডিয়া দাবি করছে যে সেটি করোনার ওষুধ বলে চালিয়েছেন তাঁরা।

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব