দেবময় ঘোষ: ‘লাভ রানস্ ব্লাইন্ড’ – আউব বাচ্চুর ভালোবাসায় অন্ধ হয়েছিল যে প্রজন্ম, আজ তাঁদের অশ্রু ঝরানোর দিন৷ ঘুম ভাঙা শহর জানতে জানতে পারেনি, শেষ চিঠি দিয়ে গিয়েছেন বাংলা রক সম্রাট৷ কখনই বলেননি এই ভাবেই চলে যাবেন বাংলা রক প্রেমীদের মনের ময়না৷

বাংলাদেশি সাংবাদিক বন্ধুদের থেকে একবার জানতে পারেছিলাম উপমহাদেশীয় গিটারের জনকের সেই চিরকালীন সৃষ্টির কথা৷ মালিবাগের একটি বাড়িতে বসে লিখেছিলেন ‘‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে … সেই আমি কেন তোমাকে দুঃখ দিলেম … কেমন করে এত অচেনা হলে তুমি … কীভাবে এত বদলে গেছি এই আমি …’’

২৫ বছর আগের সেই গানটিকে আশ্রয় করেই এক প্রজন্ম কাঁদতে চেয়েছে৷ কষ্ট পেতে চেয়েছে৷ অথচ বেঁচেও থাকতে চেয়েছে, সেই গানই কেবল বলে … ‘‘তুমি কেন বোঝনা তোমাকে ছাড়া আমি অসহায় … আমার সবটুকু ভালোবাসা তোমায় ঘিরে …৷’’

বহুবার কলকাতায় বেজেছে আউবে গিটার বেজেছে৷ কলকাতায় বাংলা রকের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত ছিলেন৷ তার হয়তো মনে হয়েছিল ফোক-রকের মিশ্রণে শ্রোতারা নিখাত রকের আনন্দ পাচ্ছেন না৷ তবে সম্প্রতি তাঁর আর সে অভিযোগ ছিল না৷ কলকাতায় বাংলা রকের উর্ধ্বমুখী জনপ্রিয়তা পরিতৃপ্তি দিয়েছিল তাঁকে৷

সত্তরের দশক বাংলা গানের গুরুত্বপূর্ণ মোড়৷ ওপাড়ে বাংলা রকের বিপ্লব শুরু হয়েছে৷ তবে ততদিনে বাংলাদেশে রক গান দিয়ে তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন আজম খান৷ তার ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’ তৈরি হয় ১৯৭৩ সালে৷ দু-একবছর আগে বা পরে তৈরি হয়েছে সাজিদ উল আলম, লুলু, নেওয়াজ, রনি বড়ুয়া ও তাজুলের Souls ৷ তৈরি হয়েছে Feelings ৷ ১৯৭৯ সালে তৈরি হয়েছে সাফিন আহমেদদের মাইলস্, ১৯৭৮ এ Feelings এ গান করতে এলেন আয়ুব ৷ ওই বছরেরই শেষ দিতে যোগ দেন Souls – এ ৷

চট্টগ্রাম৷ বাংলা রকের মক্কা৷ জন্ম দিয়েছে একের পর এক অগ্নীকুণ্ডের৷ স্বাধীনতা যুদ্ধের সৈনিক মাহবুলবুল হক খান ওরফে আজম যে আগুনে বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন, মূলত সেটিই এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন আউব বাচ্চু , জেমস , হাসান , আক্রুজ্জামান টুলু, সাফিনদের৷ তৈরি হয় জনগণের মনের মিথ – The Big Three of Bangladeshi Rock – আউব বাচ্চুর লাভ রানস্ ব্লাইন্ড বা LRB, জেমসের নগরবাউল এবং আক্রুজ্জামান টুলু, হাসানদের Ark ৷ তবে এই দৌড়ে অবসকিউর, ফিডব্যাক, চাইম, রেনেশা বা আরো অনেকের নাম বলা বাকি থেকে যায়৷

১৯৮৯ সাল পর্যন্ত Souls-এ থেকেই শ্রোতাদের হৃদয়ে একের পর এক আঁচড় কেটেছেন আয়ুব বাচ্চু৷ নিজের দল তৈরি করেন ১৯৯০ সালে৷ তবে তা এলআরবি নয়, বরং ওয়াইআরবি ৷ Yellow River Band ৷ বিদেশে একবার অনুষ্ঠান করতে গিয়েছিলেন৷ উদ্যোক্তারা ভুলক্রমে তাঁর ব্যান্ডের নাম লেখেন – Little River Band ৷ ভুল হলেও নামটা অপছন্দ হয়নি আয়ুবের৷ ওই নামটিই রেখে দেওয়া হয়৷ ব্যান্ড পরিচিত হয় এলআরবি নামে৷

বেশ চলছিল, কিন্তু পরে আউব আবার জানতে পারেন, ওই নামে অস্ট্রেলিয়াতে একটি ব্যান্ড রয়েছে৷ কিন্তু এলআরবি-এর জাতীয় বা অন্তর্জাতিক ফ্যান দুনিয়ার দিকে তাকিয়ে L, R কিংবা B – এই তিনটে শব্দ পরিবর্তন করা কার্যত অসম্ভব ছিল৷ যা করা সম্ভব ছিল তা হস ওই তিনটি শব্দের মধ্যে থেকেই নতুন নামের জন্ম দেওয়া৷ সফল ভাবে সেটি করেছিলেন আউব – ‘লাভ রানস্ ব্লাইন্ড’ পুরানো মোড়কে জন্ম নিয়েছিল নতুম এলআরবি-র৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।