নয়াদিল্লি: শনিবার সামনে এসেছে অযোধ্যা মামলার রায়। সেই রায় অনুযায়ী, বিতর্কিত জমি দেওয়া হচ্ছে হিন্দুদের, আর অন্যত্র মসজিদের জন্য জমি দেওয়া হবে মুসলিমদের। রায় প্রকাশের পর সন্তুষ্ট না হলেও রায়কে সম্মান জানানোর কথা বলেন সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী। শেষমেস জানানো হয় যে তাঁরা এই রায়ের কোনও রিভিউ চাইবেন না। তবে ৫ একর জমি তাঁরা নেবেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।

২৬ নভেম্বর তাদের বৈঠক হবে। সেখানেই এব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অযোধ্যায় মসজিদ তৈরির জন্য ৫ একর জমি তারা গ্রহণ করবে কি না, তা সেই বৈঠকে স্পষ্ট হতে পারে বলে জানিয়েছে সুন্নি কেন্দ্রীয় ওয়াকফ বোর্ড।

উত্তরপ্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান জুফার ফারুকি জানান, জমিটা গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়ে ভিন্ন মত তৈরি হয়েছে। ফারুকি বলেছেন, ‘বোর্ডের জেনারেল বডি মিটিং ২৬ নভেম্বর হওয়ার কথা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো ৫ একর জমি গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে বৈঠকটি ১৩ নভেম্বর হওয়ার কথা ছিল। পরে তা পিছনো হয়। আশা করা হচ্ছে ২৬ নভেম্বর বৈঠক হবে।’ বাবরি মসজিদের জন্য জমি গ্রহণ করা ঠিক হবে না বলে অনেকে পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও জানিয়েছে ফারুকি।

ফারুকির কথায়, ‘জমিটি আমরা নেব কি না, তা বৈঠকে ঠিক হতে পারে। যদি নেব বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে কী ভাবে তা নেব, কী শর্তে নেব তা ঠিক করতে হবে। এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়কে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। একে চ্যালেঞ্জ জানানোর কোনও পরিকল্পনা বোর্ডের নেই।’

রায় বেরনোর পরই সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী জাফারিয়াব জিলানি বলেন, ” আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট নই। এতে অনেক ভুল তথ্য আছে। রিভিউ করা যাবে কিনা, সেটা আমরা আলোচনা কর ব। তারপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” তবে, এই রায়কে সম্মান জানানোর পাশাপাশি শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে, অযোধ্যার বিতর্কিত জমি পাচ্ছেন হিন্দুরাই, তৈরি হবে রাম মন্দির। অন্যদিকে, বিতর্কিত জমি বাদে অযোধ্যায় ৫ একর জমি দেওয়া হবে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে। সেখানে তৈরি হতে পারে মসজিদ। ২.৭৭ একরের সেই বিতর্কিত জমি হিন্দুদের দেওয়ার কথাই বলা হয়েছে এই রায়ে। বলা হয়েছে বাবরি মসজিদ কোনও ফাঁকা জমিতে তৈরি হয়নি। আগে কোনও নির্মাণ ছিল ওই জমিতে। তবে ঠিক কি ছিল, সেটা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে জানাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ।