সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: পর্যটন নিয়ে রাজ্যসরকারের প্রচুর পরিকল্পনা। কিন্তু মানুষের পরিবেশ অসচেতনতার জেরে পর্যটনকেন্দ্র গুলি অনেক সময়েই অপরিচ্ছনতার জন্য প্রশ্নের মুখে পরে। ওঁরা যেন চাইছে এবার ভোট পড়ুক পরিবেশ সচেতনতার পক্ষে। সেই লক্ষ্যেই একদল ছেলেপিলে নেমে পড়েছিল অযোধ্যা পাহাড় পরিস্কার করতে।পরিস্কার করতে গিয়ে মিলল প্রচুর মদের বোতল, প্লাস্টিকসহ যত রাজ্যের জঞ্জাল। ভরতি হল ১০০টি বস্তা।

অযোধ্যা সাফাই অভিযানে নেমেছিল, গ্রীন প্ল্যাটু , অক্ষয় ভগত (গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের অধিকারী বিশিষ্ট সাইক্লিস্ট), N.S.S. ইউনিট (S.M.M. কলেজ, কুড়ুকতোপা), N.S.S. ইউনিট (J.K. কলেজ, পুরুলিয়া), রাঙামাটি এম.এস. ফাউন্ডেশন (পেঁড়রা, দরডি) এবং বি. আর. আম্বেদকর ক্লাব (লালপুর)। সেই পরিস্কার করতে গিয়েই মিলল পরিবেশ অসচেতনতার প্রমাণ।

প্রকৃতি ধংসের অন্যতম বস্তু প্লাস্টিকসহ মদের বোতলে পরিপূর্ণ অযোধ্যা হিল টপ, আপার ড্যাম, বামনি ফলসের মতো অসাধারণ সুন্দর স্থানগুলি। এই দলগুলির প্রত্যেকেরই চাহিদা পরিবেশ সচেতনতাও হয়ে উঠুক নির্বাচনের ইস্যু। ভোট পড়ুক পরিবেশ সচেতনতার পক্ষে। রাঙা মাটির দেশের সন্তানরা নেমে পড়েছিল নিজভূমি রক্ষা করতে।

আরও পড়ুন: সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রচারে হেঁটে বিতর্কে জেলা পরিষদের সভাধিপতি

গ্রীন প্ল্যাটুর পক্ষে জানানো হয়েছে , ‘বিশ্ব হোক দূষণমুক্ত, নবজাতক তার বুক ভরে শ্বাস নিক বিশুদ্ধ হাওয়া।’ প্লাস্টিক আর থার্মোকল হোক তার কাছে রূপকথার দানব, এই দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে তারা গতকাল অযোধ্যাকে প্লাস্টিক ও থার্মোকলের জঞ্জালমুক্ত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এই কার্যকলাপের সদস্যরা বিশ্বকবির সুরে বলছেন ,
‘পরজন্মে তুমি পলাশ, আমি পুরুলিয়া।’ কবির সেই অবচেতন রোমান্সের প্রত্যেকটা ফোঁটা নিংড়ে নিতে হইহই করে অযোধ্যার বুকে নেমেছিল পর্যটকদের ঢল। বেশিরভাগ পর্যটক পলাশের বদলে পুরুলিয়াকে উপহার দিয়ে গিয়েছেন , মদের বোতল, প্লাস্টিক , থার্মোকলের জঞ্জাল।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে সুযোগ না-পাওয়ায় আক্ষেপ পন্তের

তাঁরা জানিয়েছে , “পর্যটকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের কথা ভেবে পুরুলিয়া মুখ বুজে সয়ে গেছে অনেক কষ্ট। সবার চোখের আড়ালে চোখের জল ফেলছে। কিন্তু তার চোখের জল এড়িয়ে যায়নি আমাদের নজর থেকে। আমরা যারা পুরুলিয়ার আত্মার আত্মীয়, তাদের কষ্টটাও কোনও অংশে কম নয়। তাই গতকাল আমরা পুরুলিয়ার পাহাড়, জঙ্গলকে তাদের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য অযোধ্যা হিল টপ, আপার ড্যাম, বামনি ফলস সহ বিভিন্ন জায়গায় সাফাই অভিযানে নামি। প্রায় ১০০ বস্তা জঞ্জাল পরিষ্কার করা হয়। প্লাস্টিকের বোতল, মদের বোতল থেকে থার্মোকলের থালা বাটি- যা কিছু প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকারক, সবকিছুই ছিল।”

আরও পড়ুন: তৃণমূলের মন্ত্রীর কাণ্ড দেখে তাজ্জব নরেন্দ্র মোদী

অনুরোধ, ‘সবাই পুরুলিয়া আসুক, আনন্দ উপভোগ করুন, সুন্দর স্মৃতি নিয়ে যান। কিন্তু অনুগ্রহ করে পুরুলিয়াকে নোংরা করবেন না। পুরুলিয়ার লালমাটি, শাল পিয়াল পলাশে ঘেরা জঙ্গল আমাদের আবেগ, ভালোবাসা। একে নষ্ট করবেন না।’

 

সম্প্রতি সান্দাকফু থেকে ফালুট পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার রাস্তা থেকে কঠিন বর্জ্য সাফাই করছিলেন ১৬ জন পর্বতারোহী। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। এই পথ থেকে মদের বোতলসহ অন্যান্য যে বর্জ্য মিলেছে, তার পরিমাণ ছিল ৩,২২৫ কিলোগ্রাম।

হিমালয় প্লাস্টিকমুক্ত করার একটি প্রজেক্টে উঠে এসেছিল একটি ভয়ঙ্কর তথ্য। যেখানে বলা হয়েছিল , প্রতিদিন সারা দেশে প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয় ১৫,৩৪২ টন৷ এর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকে ৬০০০ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য, যা জমতে থাকে দিনে দিনে৷ একইরকম ভাবে হিমালয়ের পাদদেশে বিভিন্ন প্রদেশে অনিয়মিত প্লাস্টিক ব্যবহার থেকে তৈরি হয় প্রতিদিন কয়েক শো টন প্লাস্টিক বর্জ্য, যার পুরোটাই পড়ে থাকে অসংগৃহীত অবস্থায়৷