গ্রাফিক্স : জে ডি

দিপালী সেন, কলকাতা: হোলি খেলুন৷ কিন্তু, রং দেবেন না৷ পথে নেমেই এ বার এমনই আর্জি রাখল খোদ সারমেয়রাই!

সাধারণ মানুষের কাছে এমন আর্জি রাখার জন্য সারমেয়দের দোসর হিসাবে ছিল আবার পথশিশু সহ বিভিন্ন স্কুলের পড়ুয়ারা৷ রবিবার এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তর কলকাতা৷

আরও পড়ুন: প্রধান শিক্ষিকার আচরণই ‘অশিক্ষিত’, শিক্ষাবিদরা স্তম্ভিত-ক্ষুব্ধ

দোলযাত্রা এবং হোলির সময় এমন ঘটনা দেখা যায় যে, রাস্তার সারমেয়দের জোর করে রং মাখিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ বহু চেষ্টা করেও রাস্তার সারমেয়রা নিজেদের রক্ষা করতে পারে না ‘রং-দৈত্য’দের হাত থেকে৷ যার ফলস্বরূপ, দোলযাত্রা এবং হোলির পরেও রাস্তায় রং-বেরঙের সারমেয়দের দেখা যায়৷

অন্যদিকে, রাস্তার কোনও সারমেয় বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক মিশ্রিত রং খেয়ে ফেললে, তার মৃত্যুও হতে পারে৷ রাস্তার সারমেয়দের যাতে এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে না হয়, তার জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রবিবার অভিনব উপায়ে একটি পদযাত্রার আয়োজন করে উত্তর কলকাতার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মেডিক্যাল ব্যাংক৷

আরও পড়ুন: মহিলা কামরায় এবার বসবে সিসিটিভি

‘তোমরা আমায় রং দিও না’৷ ওই পদযাত্রায় শামিল সারমেয়দের গলায় এমনই স্লোগান সম্বলিত বার্তা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন আয়োজকরা৷ মেডিক্যাল ব্যাংকের কর্ণধার ডি আশিসের কথায়, ‘‘‘তোমরা আমায় রং দিও না’, রাস্তার কুকুরদের হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে এই আবেদন জানানো হয়েছে এ দিনের পদযাত্রায়৷ এই পদযাত্রার নেতৃত্বে রাস্তার কয়েকটি কুকুরকে রাখা হয়েছিল৷ একটি অ্যালসেশিয়ান কুকুরও ছিল এ দিন৷’’

আর, এই সব সারমেয়র দোসর ছিল এ দিন স্কুলের পড়ুয়ারা৷ পথশিশুদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করে কলকাতা পুলিশের ‘পথদিশা’৷ এই ‘পথদিশা’ এবং উত্তর কলকাতার বিভিন্ন স্কুলের পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়ারা রাস্তার সারমেয়দের হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে এ দিন রং না দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে৷ প্রায় ৩০০ পড়ুয়া এ দিনের পদযাত্রায় শামিল হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ডি আশিস৷ এ দিন সকালে শোভাবাজার মেট্রো রেলওয়ে স্টেশনের কাছ থেকে শুরু হওয়া ওই পদযাত্রায় পড়ুয়ারা এমনই আর্জি রাখে, ‘রং খেলুন৷ রঙিন হয়ে উঠুন৷ কিন্তু, রাস্তার সারমেয়দের থেকে দূরে থাকুন৷’

আরও পড়ুন: পুরুষ শিক্ষকদের দরজা বন্ধ মেয়েদের স্কুলে

মেডিক্যাল ব্যাংকের কর্ণধার জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ‘না-মানুষ’দের রক্ষা করতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে৷ প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারকারীদের শাস্তির ব্যবস্থাও করছে দেশের আইন৷ কিন্তু, তার পরেও প্রাণীদের উপর অত্যাচারে কোন বিরতি নেই৷ বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে একটি হল দোলযাত্রা৷ দোলযাত্রার পরের দিনই হোলি৷ রঙের এই উৎসবে মেতে ওঠেন সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ৷ কিন্তু, রাস্তার সারমেয়দের জন্য এই উৎসব বিভীষিকা হয়ে উঠে৷

যে কারণে, রাস্তার সারমেয়দের রক্ষা করার লক্ষ্যেই এমন পদযাত্রার আয়োজন বলেও জানিয়েছেন ডি আশিস৷ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘বাচ্চাদের দেখা যায়, বেলুনে রং ভরে কুকুরদের দিকে ছুঁড়ে মারছে৷ তাই, রাস্তার কুকুরদের বাঁচাতে স্কুলের পড়ুয়াদের মাধ্যমেই এ দিন আর্জি জানানো হল৷ ’’ তবে, শুধুমাত্র এই পদযাত্রাও নয়৷ রাস্তার সারমেয়দের রক্ষার জন্য আগামী দিনে মেডিক্যাল ব্যাংকের তরফে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন৷

আরও পড়ুন: মমতার ‘চপ’ শিল্পেই ইংল্যান্ডে বাজিমাত কলকাতার যুবকের