স্টাফ রিপোর্টার, কাঁথি: সারা বছরই নারী সুরক্ষায় বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করে রাজ্যসরকার। এবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের তরফে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মহিলাদের মধ্যে বাল্যবিবাহ রোধ, নারী পাচার সহ সমাজের কল্যাণে সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে একাধিক জনমুখী কর্মসূচি গ্রহন করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, শিশু সুরক্ষা ইউনিট, জেলার সমাজ কল্যাণ দফতর এবং জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে জেলার বিভিন্ন ব্লকের অন্তর্গত বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাকে এই কর্মসূচি পালনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। ওই সমস্ত এলাকার বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে সচেতনতার কথা জনগনকে জানানো সঙ্গে সঙ্গে বাল্যবিবাহ, শিশুপাচার সহ প্রতিনিয়ত শিশুদের উপর ঘটে চলা বিভিন্ন যৌন অপরাধ মূলক কাজের বিষয়ে সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়।

সোমবার দেশপ্রান ব্লকের ধোবা বেরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত ভবানীপুর অঘোর চাঁদ হাইস্কুলের ছাত্রী তাঁদের অভিভাবক এবং ব্লক লেভেল, চাইল্ড প্রটেকশন কমিটিকে নিয়ে একটি সচেতনতা শিবির অনুষ্ঠিত হয়। শিবিরে উপস্থিত ছিলেন, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা শিশু কল্যাণ কমিটির চেয়ারপারসন ডক্টর দিলীপ কুমার দাস। জেলা সুরক্ষা আধিকারিক (প্রাতিষ্ঠানিক)শ্রীমতি সঙ্গীতা সাহু, এবং জেলা শিশু সুরক্ষা ইউনিটের সমাজকর্মী সঙ্গীতা মণ্ডল ও কাজলা জনকল্যাণ সমিতির পরিচালিত তপোবন সেবাসদনের সুপার দিপালী নন্দী প্রমুখ জনপ্রতিনিধিরা।

এদিন জেলা শিশু কল্যাণ কমিটির চেয়ারপারসন ডঃ দিলীপ কুমার দাস তার বক্তব্যে রাখতে গিয়ে বলেন, ”আইনের মাধ্যমে বাল্য বিবাহ বন্ধ করা যায় ঠিকই। কিন্তু, সবচেয়ে বড় কথা আমাদের মধ্যে সচেতনতা এলেই তবেই এই ধরনের একটি সমাজের ক্ষতিকারক দিক থেকে কন্যা সন্তানদের বাঁচাতে পারবো। এই সচেতনতা শিবিরের ফলস্বরুপ আগামী দিনে বাল্যবিবাহ কমবে বলে মনে করি। শিশু কল্যাণ কমিটি সর্বদা তোমাদের সঙ্গে আছে।”

জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক শ্রীমতি গিরি বলেন, ”তোমাদের নিজের ভালো নিজেদেরকে বুঝতে হবে। তোমরা ১৮ বছর বয়সের আগে কেউ বিয়ে করবে না, পড়াশোনা চালিয়ে যাবে। বিভিন্ন সময়ে শিশু তথা নারীর ওপর ঘটে চলা যৌন নির্যাতন এবং পারিবারিক হিংসার শিকার অচিরেই নষ্ট করছে তাদের প্রতিভাকে। বড় হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর পথ বন্ধ করে পরিবারকে দুর্বল করছে এই সমস্ত বাজে কাজকর্ম।”

এই বিষয়ে জেলা শিশু সুরক্ষার তরফে বাল্য বিবাহের বিষয়ে কুইজ ও প্রশ্নোত্তর অধিবেশনের মাধ্যমে বয়সন্ধিকালীন ছেলেমেয়েদের মধ্যে বাল্যবিবাহ তার সম্পর্কীয় প্রতিকার, প্রভাব বিষয়ে তথ্য জানানো হয়। দলগত পদ্ধতিতে শিশুদের মতামত সংগ্রহ করে তাদের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে সতর্কও প্রতিরোধ ব্যবস্থা জাগরণে, তাদের নিজেদের করণীয় দিকগুলো তুলে ধরা হয় এদিন।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ