স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: যারা মনোরঞ্জন পাত্রকে খুন করেছে তাদেরকে দিল্লির বাবারাও বাঁচাতে পারবে না।আমি পুরোটা দেখছি।কার কত বড় ক্ষমতা দেখে নেব। রবিবার খানাকুলে দলীয় নেতার বাড়িতে গিয়ে এভাষাতেই হুঁশিয়ারি দিলেন সাংসদ তথা যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷

শনিবার রাত আটটা নাগাদ দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হয়েছিলেন খানাকুল ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা মনোরঞ্জন পাত্র। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে খুন করেছে৷ যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।

রবিবার তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। খানাকুলে দাঁড়িয়েই বিজেপি-র দিকে নিশানা করে অভিষেক বললেন, “যারা মনোরঞ্জন পাত্রকে খুন করেছে, তারা সবাই বিজেপি-র লোক। আগে এরাই সিপিএমের অনিল বসুর হয়ে এলাকা দখল করত। তবে আমি স্পষ্ট বলছি, যারা খুন করেছে তাদেরকে দিল্লির বাবারাও বাঁচাতে পারবে না। আমি পুরোটা দেখছি।কার কত বড় ক্ষমতা দেখে নেব। ”

অভিষেক এ দিন দুপুর তিনটে নাগাদ খানাকুলে পৌঁছন। সঙ্গে ছিলেন আরামবাগ মহকুমার দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূল নেতা দিলীপ যাদব। অভিষেক কথা বলেন নিহত মনোরঞ্জনের দুই ছেলে, স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।আশ্বাস দেন,দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করবে প্রশাসন।এদিন প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা যায় সাংসদকে।অভিষেক বলেন, “সন্ত্রাসের পাল্টা সন্ত্রাস, রক্তের পাল্টা রক্তের রাজনীতি আমরাও করতে পারি। কিন্তু আমরা ওই রাজনীতি করি না। ১৬ জনের নামে এফআইআর হয়েছে। চার জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে।”

খুন হওয়ার তিন দিন আগেও হামলা হয়েছিল মনোরঞ্জন পাত্রর উপর। সেই সময়ে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে। কিন্তু তার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফের হামলা। সাংবাদিকরা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললে সাংবাদিকদের অভিষেক বলেন, “পুলিশের একটা অংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে বাংলার মানুষের ভরসা আছে। দুষ্কৃতীরা ছাড়া পাবে না।”

বিজেপি-র উদ্দেশে হুঙ্কার দিয়ে অভিষেক বলেন, “কে কত বড় মস্তান হয়েছে দেখব। দরকার হলে ১০ দিনের মধ্যে আমি ফের এলাকায় আসব।”