কলকাতা: ‘সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের কোনও পার্থক্য নেই’৷এফআরডিআই বিলের প্রতিবাদে পথে নেমে মোদী সরকারকে এই ভাষাতেই আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷

সংসদে বিরোধিতা করার পর ফিনান্সিয়াল রেসোলিউশন অ্যান্ড ডিপোজিট ইন্সুরেন্স বিলের (‌এফআরডিআই) বিরুদ্ধে এবার রাস্তায় নামল যুব তৃণমূল কংগ্রেস৷ শুক্রবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যাদবপুর থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করে তৃণমূল৷ এদিনের কর্মসূচী থেকে এদিন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো৷

তিনি বলেন, “আপনি এফডি করে রাখতে পারেন, আপনি আপনার সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা রাখতে পারেন। নরেন্দ্র মোদী এমন বিল আনতে চলেছে, যার মাধ্যমে আপনার অনুমোদন ছাড়া, সম্মতি ছাড়া, আপনাকে না জানিয়ে সেই টাকা ব্যাঙ্ক জবর দখল করে নিতে পারে। আমি মনে করি, সুদীপ্ত সেন ও এই বিজেপি নেতাদের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। তার কারণ, চিটফান্ডে যারা টাকা রেখেছিল তাদের টাকা প্রতারকরা উড়িয়ে দিয়েছে। আর আজ ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরা তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছেন। তাই, সুদীপ্ত সেন যদি গ্রেফতার হয় আমাদের ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ কেন নেওয়া হবে না ?

অভিষেক এই মন্তব্যের পরই পাল্টা আক্রমণে নেমেছেন বিজেপি নেতারা৷ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ওরা বিলটার বিষয়ে কিছু না জেনেই এসব বলছ৷ আসলে ওরা বিজেপিকে ভয় পেয়েছে৷ একধাপ এগিয়ে বিজেপির প্রাক্তণ রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা বলেন, সুদীপ্ত সেনকে ওরাই ভাল করে চেনে৷ সারদার টাকা ওরাই নিয়েছে৷ ওরা নিজেরাই সুদীপ্ত সেন৷ যাঁরা এতবড় আর্থিক কেলেঙ্কারি করেছেন তাদের মুখে এসব কথা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়৷

উল্লেখ্য, গত আগস্টে লোসকভায় ফিনান্সিয়াল রেসোলিউশন অ্যান্ড ডিপোজিট ইন্সুরেন্স বিল (‌এফআরডিআই)‌ পেশ করেছে মোদী সরকার। তাতে বলা হয়েছে, কোনও ব্যাঙ্ক দেউলিয়া অবস্থার মধ্যে পড়লে আমানতকারীদের জমা অর্থ ব্যবহার করতে পারবে। তার জন্য গ্রাহকের সম্মতির প্রয়োজন নেই।যদিও এর আগে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির দাবি করেছিলেন, প্রস্তাবিত ফিনান্সিয়াল রেজোলিউশন অ্যান্ড ডিপোজিট ইন্সুরেন্স (এফআরডিআই) বিল ২০১৭ আমানতকারীদের অধিকার সুরক্ষিত রাখবে৷কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস এই দাবি মানতে নারাজ৷

কেন্দ্রীয় এই ব্যাঙ্ক নীতির প্রতিবাদে প্রথম থেকে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই আইন লাগু না করার অনুরোধ জানিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিকে চিঠি লেখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় নেতৃত্বকে এনিয়ে সংসদে সরব হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।এই বিলকে ‘ড্রাকুলার বিল’ বলে তোপ দেগেছেন তিনি৷ প্রতিবাদ আরও জোরদার করতে এবার কলকাতার রাজপথে এনিয়ে প্রতিবাদে সামিল হল যুব তৃণমূল কংগ্রেস।