এক স্ট্রাইক। আর তাতেই কেঁপে গিয়েছিল পাকিস্তান। বাইরে নানারকম কথা বললেও ভিতরের গল্পটা সম্পূর্ণ অন্য ছিল। অভিনন্দন বর্তমানের এবং তাঁর দলের সেই এয়ার স্ট্রাইকের পর থেকে ৪৫ দিনের বেশি সময় বর্ডার সংলগ্ন অঞ্চলে কার্যত এমারজেন্সি ঘোষণা করা ছিল। ক্যাপ্টেন অভিনন্দনকে ৬০ ঘণ্টা আটকে রাখাত পর শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দিলেও এই এমারজেন্সি যেন বলে কতটা চাপ পড়েছিল ইমরানের সৈন্যদের উপর।

গত বছর ২৭ ফেব্রুয়ারির সেই রাতে ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে কয়েকটি পাকিস্তান যুদ্ধবিমান। মুহূর্তের মধ্যে আকাশে উড়ে গিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনার ২টি মিগ-২১ যুদ্ধবিমান। যার একটিতে ছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডার অভিনন্দন। সরকারি সূত্রের খবর, তিনি পাক হামলা বানচাল করেন এবং পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর একটি এফ -১৬ যোদ্ধা জেট ধ্বংস করে দেন। তারপর তিনি বিপাকে পড়ে যান। তার বিমানকে নামায় পাকিস্তান। ধরা পড়ে যান তিনি, তারপরই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে পাকিস্তান।

তিন দিনের ধরে রাখার পর, ১ মার্চ পাকিস্তান সরকার তাকে মুক্তি দেয়। কিন্তু এরপর পাকিস্তান এতটাই চাপে ছিল যে ফলস্বরূপ তারা তাদের এয়ার স্পেসকে দুই মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রেখেছিল,করাচি সংলগ্ন অঞ্চল গুলিকে রাতে ব্ল‍্যাক‌আউট করে রাখা হয়েছিল,বর্ডার সংলগ্ন সমস্ত অঞ্চলে জাতীয় এমার্জেন্সি ঘোষনা করেছিল এবং সর্বোপরি স্ট্রাইক করা অঞ্চলে ৪৫ দিন পর্যন্ত কোন সাংবাদিকদের যেতে দেয়নি পাকিস্তান।

আরও পড়ুন – BREAKING: দিল্লিতে মৃত্যু মিছিল, সংখ্যা বাড়ল ৩৪-এ

বিশেষজ্ঞরা আবার বলছেন, পাকিস্তানিরা যেভাবে F-16 এর মান সম্মান নষ্ট করেছে,সেটা আর কেও করতে পারেনি।কখনও নিজেরাই নিজেদের F-16 শ‍্যুট করে,কখনো বা রান‌ওয়েতে থাকা শুয়োরের সাথে ধাক্কা লাগিয়ে F-16 ধংস হয়েছে। এদের সর্বশেষ কান্ড হল Mig-21 এর হাতে F-16 এর শ‍্যুটডাউন, যা প্রায় অসম্ভব। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছিল ভারতীয় বিমানবাহিনীর সেনাদের দক্ষতা।

মিগ ২১ একটি যুদ্ধবিমান। মিকোয়ান ডিজাইন ব্যুরো মিগ ২১ বিমানের নকশা তৈরি করে। এর ন্যাটো কোডনেম ফিসবেড। মিগ ২১-এর জন্ম হয় সোভিয়েত ইউনিয়নে। এটি ইতিহাসে সর্বাধিক নির্মিত ফাইটার জেট। এটি মালালাইকা নামে অধিক পরিচিত ছিল।মিগ ২১ একটি সুপারসনিক ফাইটার। এটি আকাশ থেকে থেকে আকাশে, আকাশ থেকে মাটিতে সবদিকেই কার্যকরি। মিগ ২১-এর আছে শক্তিশালী ইঞ্জিন ও হালকা বডি। এছাড়া উন্নত ম্যানুয়েভার পাওয়ার এই ফাইটারকে অন্যসব ফাইটারগুলো থেকে আলাদা করে দিয়েছিল। মিগ ২১-এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেশ কম। এই বিমানের জন্য আলাদা শেড-এর দরকার হয় না। খোলা আকাশের নিচে এই বিমান ফেলে রাখা যায়।

১৯৫৯ সালে সার্ভিসে আসার ৫০ বছর পরেও মিগ ২১ এবং চীনা সংস্করণ জে-৭ / এফ-৭ এয়ারগার্ড বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। যার প্রধান কারণ এর উন্নত সংস্করণ। এই ফাইটার-এর বডি বাদে মোটামুটি সব পার্টসই কম-বেশি উন্নত হয়েছে। আর এই আপগ্রেডেশন এই ফাইটারকে আধুনিক রাখতে সাহায্য করেছে।