স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ফ্রেঞ্চকাট সাদা দাড়ি৷ এলোমেলো সাদা চুল৷ পরনে সাদা ফিনফিনে ধুতি-পাঞ্জাবি৷ কোঁচা লুটোচ্ছে মাটিতে৷ চোখে দামী বিদেশি গগলস৷ চোখে লাগা ইমেজ৷ দীর্ঘ কয়েক দশকের টানা কর্মজীবন৷ বইমেলার মঞ্চে অশোক কুমার সরকারের আকস্মিক মৃত্যুর পর এসব নিয়েই আনন্দবাজার পত্রিকা ও তিনি সমার্থক হয়ে গিয়েছিলেন৷ ‘বাংলার সর্বাধিক প্রচারিত’ সংবাদপত্রের সম্পাদক হিসেবেই অভীক সরকারের নামটি জানতেন পাঠকরা৷

পড়ুন: আনন্দবাজার থেকে পদত্যাগ করলেন অভীক সরকার
বৃহস্পতিবার দীর্ঘকালের এই সংবাদপত্র যথারীতি প্রকাশিত হবে৷ তবে তার প্রিন্টার্স লাইনে আর থাকবে না অভীক সরকারের নাম৷ তাঁর পদত্যাগের পর থেকেই সাংবাদিক মহলে প্রশ্ন যে, ‘সরকার’ গোষ্ঠীর পরিচালনায় পত্রিকাটি টানা নয় দশক বাঙালির মনন ও সংবাদের চাহিদা অনেকটাই মিটিয়েছে৷ তাতে কোনও খামতি হবে না তো?
বিভিন্ন সূত্রে খবর, আনন্দবাজার ও টেলিগ্রাফের সম্পাদক হিসেবে অভীকবাবুর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তাঁর ভাই অরূপ সরকার৷ তিনিই এখন থেকে এবিপি গ্রুপের মুখ্য সম্পাদক৷
আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও ‘কলকত্তাই বাবুয়ানি’ পরিধানের বাঙালি ইমেজের অভীক সরকারকে ২০০৯ সালে ‘সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে’র তকমা দেয় The Indian Express গোষ্ঠী৷ নিকোলাস কোলরিজের PAPER TIGERS বইতেও এই বিখ্যাত সংবাদ ব্যক্তিত্বের কথা বলা হয়েছে৷ তাতেও স্বনামে বিরাজ করেছেন অভীকবাবু৷ পোশাকে বাঙালি হলেও, আসলে অনেকটা সময়ই অভীকবাবুর বিলেতে কেটেছে৷ এখনও কাটে৷
বাম আমলে তেমন প্রকাশ্যে দেখা যেত না অভীক সরকারকে৷ এক আনন্দ পুরস্কারের অনুষ্ঠানে ছাড়া৷ নিন্দুকেরা বলত, এ রাজ্যের শাসকেরা অনেকেই তাঁর বাড়িতে ডিনারে নিয়মিত আমন্ত্রিত হতেন৷ উপহারস্বরূপ দামী বিদেশি ওয়াইনের বোতলও পেতেন৷ তৃণমূল সরকারের আমলে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁকে হামেশা প্রকাশ্যেই দেখা গিয়েছে৷
সংবাদপত্র কর্মীদের ভাষায়, আনন্দবাজার পত্রিকা ও The Telegraph, এবিপি আনন্দসহ এবিপি গোষ্ঠীর সমস্ত শাখার সঙ্গে অভীকবাবুর সরাসরি যোগাযোগ ছিল৷ অরূপ সরকার থাকতেন নেপথ্যে৷ এবার ছোট ভাই অরূপ সরকার প্রকাশ্যে এলেন৷ তাঁর কাঁধেই পড়ল পূর্বপুরুষের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার গুরুদায়িত্ব৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।