সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : করোনা নিয়ে সরকারের লড়াইকে খাটো করেছেন তিনি। সরকারের বিরুদ্ধচারন করছেন বিজেপি’র সাংসদ সৌমিত্র খাঁ’কে। এমন অভিযোগেই গ্রেফতার হতে হয়েছে তাঁকে। সংগঠন নেতার গ্রেফতারীতে সরব গেরুয়া ছাত্র সংগঠন।

এভিবিপি’র পক্ষে জানানো হয়েছে, ‘করোনা’ নামক চীনা ভাইরাসের প্রকোপ সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের ডাক্তার ও নার্সদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতি নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে চিকিৎসা করাতে সরকার বাধ্য করছে। এরই প্রতিবাদে এই রাজ্যের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডঃ ইন্দ্রনিল খাঁ মহাশয় তার সোশ্যাল মিডিয়াতে করোনা চিকিৎসার সাথে যুক্ত ডাক্তার ও নার্সদের করুন পরিস্থিতির কথা একের পর এক তুলে ধরলে শাসকের চক্ষুশূল হতে হয়। মহেশতলা থানার পুলিশ এসে অ্যারেস্ট করে নিয়ে যান এবং কতগুলি জামিন অযোগ্য ধারায় ওনার উপর মামলা করা হয়। সেই সাথে ওনার ব্যক্তিগত মোবাইলটিও পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের হেফাজতে রাখেন। ফল স্বরূপ ওনার কাছে চিকিৎসা করতে আসা অনেক গরীব দুস্থ মানুষ ডাক্তারবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে দিনের পর দিন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।ভবিষ্যতে বিনা চিকিৎসায় কোন রোগী যদি মারা যান তাহলে এর জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী থাকবে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ প্রশাসন। ‘

ছাত্র সংগঠনের প্রশ্ন তুলেছে, ‘মহামারীর মতো কঠিন পরিস্থিতিতে এই রাজ্যের ডাক্তার ও নার্সরা যখন নিজ জীবন ঝুঁকি নিয়ে করোনা রোগীদের সেবা শুশ্রূষা করে চলেছেন তখন ওনাদের জন্য কি রাজ্য সরকার ন্যূনতম ভালো চিকিৎসা সামগ্রীর ব্যবস্থা করতে পারেন না? বলতে লজ্জা লাগছে সরকারী হাসপাতালে কাজ করা এই সব মানুষদের PPE (ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম) এর পরিবর্তে সুরক্ষার জন্য রেইনকোট ও বায়োমেডিকাল বর্জ্য প্লাস্টিক দেওয়া হচ্ছে। অথচ এই সরকার করোনার চিকিৎসার জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন! তাহলে কোথায় গেল এত টাকা ? আর এই বেহাল চিকিৎসা পরিকাঠামো নিয়ে কথা বললে অ্যারেস্ট হতে হচ্ছে।’

এই ঘটনা প্রসঙ্গে এবিবিপি’র রাষ্ট্রীয় সম্পাদক সপ্তর্ষি সরকার বলেন, ‘আত্মসমালোচনা ও আত্মসমীক্ষা করতে গিয়ে যখনই এই পশ্চিমবাংলার চিকিৎসা ক্ষেত্রের দুর্বলতাকে জনসমক্ষে আনা হচ্ছে, তখনই কোনো না কোনো চিকিৎসককে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। পূর্বেও ডেঙ্গু নিয়ে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করায় কয়েকজন ডাক্তারবাবুকে শাসকদলের রোষানলে পড়তে হয়। বারবার এই ঘটনা সামনে আসাই প্রমাণিত হচ্ছে রাজ্যে একনায়কতন্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চলছে। যা শুধু ডাক্তার সমাজ নয় গোটা বাঙালি জাতির কাছে গভীর উদ্বেগের বিষয়। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে। বিদ্যার্থী পরিষদ দাবি রাখছে ডঃ ইন্দ্রনীল খাঁকে যেভাবে পুলিশ স্টেশনে রাতের বেলায় নিয়ে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে হেনস্থা করা হয়েছে,তার জন্য পুলিশ প্রশাসন ও বর্তমান রাজ্য সরকারকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং জামিন অযোগ্য মামলাগুলি প্রত্যাহার করতে হবে।এছাড়াও আগামী দিনে কোনও ডাক্তারবাবু যদি চিকিৎসা ব্যবস্থার বেহাল দুর্দশার কথা তুলে ধরেন তাহলে তার জন্য তাকে কোনরকম হেনস্থা করা না হয় এবং প্রয়োজনে সেই সমস্ত দিক গুলি বিচার করে যথাসম্ভব রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় আগামী দিনে বিদ্যার্থী পরিষদ সারা রাজ্য জুড়ে ডাক্তারদের স্বার্থ রক্ষার দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে রাস্তায় নামব।’