লাদাখ: ফের ধস নামল সিয়াচেনে। বরফের তলায় আটকে একাধিক জওয়ান। সোমবার দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ এই ঘটনা ঘটেছে। সেনাবাহিনী সূত্রে খবর, সিয়াচেনের নর্দার্ন গ্লেসিয়ারে ধস নেমেছে। যার জেরে আটকে পড়েন জওয়ানরা।

জানা গিয়েছে, ওইসময় ওই এলাকায় প্যাট্রলিংয়ে নিযুক্ত ছিল সেনা জওয়ানরা। অন্তত আটজন সেখানে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সেইসময়ই ধস নামে। বরফের স্তূপের ভিতর আটকে পড়েন তাঁরা। ১৮০০০ ফুট উচ্চতায় ঘটেছে ওই ঘটনা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ।

সিয়াচেনে এই ধরনের ঘটনা এই প্রথম নয়। বিশ্বের উচ্চতম যুদ্ধক্ষেত্রে এভাবেই প্রাণ হাতে নিয়ে দেশরক্ষার কাজ করেন জওয়ানরা।

২০১৬-তে তুষার ধসে এই সিয়াচেনেই প্রথমে নিখোঁজ হন ১০ ভারতীয় সেনা। হিমবাহের উত্তর অংশে তুষার ধস ঘটার পরে অনুমান করা হয় ওই দলটি ৬০০ মিটার উঁচু এবং ১ কিলোমিটার প্রশস্ত এক বরফ-প্রাচীরের অন্তরালে আটকে পড়েছিল। উদ্ধারকাজের পর জানা যায়, মারা গিয়েছেন ১০জনই।

এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে পারভেজ মুশারফ পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন প্রাক্তন ভারতীয় প্রধানমনন্ত্রী মনমোহন সিংহ সিয়াচেন থেকে সেনা সরানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। যা নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। কিন্তু ভারতের দাবি ছিল, বর্তমানে অবস্থান অনুযায়ী ম্যাপ বা স্যাটেলাইট ডকুমেন্টেশন-এ রাজি হয়নি পাকিস্তান। ফলে সিয়াচেন থেকে ভারতীয় সেনাও সরেনি।

কারণ সৌজন্যের সুযোগ নিয়ে একবার যদি পাকিস্তান যদি একবার ভারতের দখলে থাকা জায়গাগুলির দগখল নিয়ে নেয়, তাহলে কাশ্মীরের একাংশ-সহ লেহ, লাদাখ, নুবরা নদী উপত্যকা, লেহ-লাদাখ হাইওয়ে-সহ সব কিছুরই দখল পাক সেনার হাতে চলে যেতে পারে। এখনও পর্যন্ত সিয়াচেনে প্রায় ৯০০ ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন সৌমিত্রবাবু। কিন্তু একবার পাকিস্তান সিয়াচেনের দখল নিলে তার পুনর্দখল নিতে ২-৩ হাজার ভারতীয় সেনার মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন বিশেষজ্ঞরা।

১৯৮৪-র পরে থেকে প্রায় ৭২ কিমি লম্বা এবং ২৫-৩০ কিমি চওড়া সিয়াচেন হিমবাহের পুরোটাই ভারতের দখলে। সিয়াচেনে ভারত-পাকিস্তান সীমানা যেখানে শেষ হয়েছে, সেই পয়েন্ট এনজে ৯৮৪২-এর পূর্বে থাকা কারাকোরাম পর্বতশৃঙ্গ, পশ্চিমে সালতোরা গিরিশিরা এবং একদম উত্তরে ১৮ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় থাকা ইন্দিরা কলও রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দখলে। সীমান্তের ওপারে পাক সেনার অবস্থান অনেকটাই নীচের দিকে। ফলে অবস্থানগত সুবিধা পায় ভারত। চাইলেও সহজে এই পথে বিশেষ সুবিধা করতে পারে না পাক সেনা।