সিডনিঃ  ভয়ঙ্কর দাবানলে পুড়ছে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়ালেস। আগুনের তীব্রতা ক্রমশ গ্রাস করছে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গাকে। ইতোমধ্যেই পুড়ে গিয়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ব্যাপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজ্যের উপদ্রুত এলাকার ৩০টির মতো বাড়িঘর। নিউ সাউথ ওয়ালেস পেরিয়ে আগুনের উত্তাপ ছড়িয়েছে সংলগ্ন কুইন্সল্যান্ড এলাকাতেও। আগুনের তীব্রতায় এখনও পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। যেভাবে দাবানলের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে তাতে তাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, হতাহতের শঙ্কাও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় খরা আক্রান্ত এলাকাগুলিতে গত সেপ্টেম্বর থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ার মতো ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কিছু এলাকায় ভয়াবহ রকমের আগুনের গ্রাস চলে গিয়েছে। ভয়ঙ্কর এই দাবানলের লেলিহান শিখায় ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক লাখ হেক্টরেরও বেশি এলাকা। কিছু কিছু এলাকা পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে জ্বলছে।

অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণত গ্রীষ্মকালে তাপদাহের কারণে জঙ্গলে দাবানল লক্ষ করা যায়। স্থানীয়রা একে বলে থাকে বুশফায়ার। এই দাবানল কতটা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, টেলিভিশনের পর্দায় মাঝেমধ্যেই উঠে আসে তার করুণ চিত্র। আগুনের এই রোষের মুখে অসহায় হয়ে পড়ে মানুষ।

কখনও সংলগ্ন এলাকা থেকে মানুষজনকে উদ্ধার করা অথবা দাবানলের পথে গাছ কেটে আগুন থামানোর চেষ্টাতেই অবলম্বন খোঁজেন স্থানীয়রা। সরকারিভাবে বিমান থেকে বিশেষ তরল মিশ্রণ ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টাও করা হয়। তবে সে প্রচেষ্টা সব সময় সফল হয় না। তবে বুশফায়ার বা দাবানলপ্রবণ এলাকায় জনবসতি তুলনামূলক কম থাকে। ফলে লোকজনের প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কিছুটা কম হয়। কিন্তু প্রচুর গাছ ও জীবজন্তুর প্রাণহানি ঘটে।