সিডনি: সিরিজ জেতা হয়ে গিয়েছে আগেই। কিন্তু ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্ট বড় বালাই। তাই সিরিজ জেতা হয়ে গেলেও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিডনিতে তৃতীয় তথা সিরিজের শেষ টেস্টকে যে হালকাভাবে নিচ্ছে না তাঁরা, বুঝিয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া। ল্যাবুশেনের অপরাজিত শতরান, স্টিভ স্মিথের অর্ধশতরানে প্রথমদিনের শেষে সুবিধেজনক জায়গায় ব্যাগি গ্রিনরা। প্রথমদিনের শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ৩ উইকেট হারিয়ে ২৮৩।

যত দিন যাচ্ছে তত যেন চওড়া হচ্ছে মার্নাস ল্যাবুশেনের উইলো। পারথে প্রথম টেস্টের পর ফের তিন অঙ্কের রান এল তাঁর ব্যাট থেকে। ২০১৯ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বাধিক ১১০৪ রান এসেছিল তাঁর ব্যাট থেকেই। শুক্রবারও বছরের প্রথম টেস্ট ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ফের তেমনই কিছু বার্তা দিলেন ল্যাবুশেন। কেরিয়ারের ১৪তম টেস্টে এই নিয়ে চতুর্থ শতরান হাঁকিয়ে ফেললেন টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম কনকাশন রিপ্লেসমেন্ট।

দাবানলের ভ্রুকুটি এড়িয়ে সিডনিতে এদিন নির্ধারিত সময়েই শুরু হয় খেলা। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অজি অধিনায়ক টিম পেইন। লম্বা হয়নি ওপেনার জো বার্নসের ইনিংস। মাত্র ১৮ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। অর্ধশতরান থেকে পাঁচ রান দূরে দাঁড়িয়ে সাজঘরে ফেরেন আরেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। এরপর জুটি বাঁধেন ল্যাবুশেন-স্টিভ স্মিথ জুটি। সিডনিতে এদিন রানের খাতা খুলতে ৩৯ বল খরচ করলেন স্মিথ। যা তাঁর কেরিয়ারের দীর্ঘতম। এর আগে ২০১৪ ভারতের বিরুদ্ধে মেলবোর্নে রানের খাতা খুলতে ১৮ বল নিয়েছিলেন প্রাক্তন অজি অধিনায়ক। যাইহোক, প্রথম রান নিয়ে এদিন সিডনির গ্যালারির প্রশংসা কুড়িয়ে নেন স্মিথ।

ল্যাবুশেন-স্মিথের তৃতীয় উইকেটে ওঠে মূল্যবান ১৫৬ রান। শেষ অবধি কেরিয়ারের ২৮তম অর্ধশতরান পূর্ণ করে ব্যক্তিগত ৬৫ রানে স্মিথ আউট হলেও থামানো যায়নি ল্যাবুশেনকে। ১২টি চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে দিনের শেষে ১৩০ রানে (২১০ বল) অপরাজিত তিনি। সঙ্গী হিসেবে ২২ রানে অপরাজিত ম্যাথু ওয়েড। দিনের শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ৩ উইকেট হারিয়ে ২৮৩। কিউয়িদের হয়ে ২টি উইকেট ডি গ্র্যান্ডহোমের ও একটি নিল ওয়্যাগনারের।

উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া দল অপরিবর্তিত থাকলেও সিডনিতে চারটি পরিবর্তন নিউজিল্যান্ড দলে। অসুস্থতার কারণে কেন উইলিয়ামসন না থাকায় দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন টম ল্যাথাম। অসুস্থতার কারণে নেই ব্যাটসম্যান হেনরি নিকোলস ও স্পিনার মিচেল স্যান্টনারও। দ্বিতীয় টেস্টে হাতে চোট পাওয়ায় সিডনি টেস্ট থেকে আগেই ছিটকে গিয়েছিলেন পেস বিভাগের সেরা অস্ত্র ট্রেন্ট বোল্ট। পরিবর্তে দলে এসেছেন উইল সমারভিল, জিত রাভাল, টড অ্যাসলে। সিডনিতে অভিষেক হল ব্যাটসম্যান গ্লেন ফিলিপসের।