নটিংহ্যাম: ক্যাচ ছাড়ার খেসারত দেওয়ার ঘটনা অতীতে অনেকবারই ঘটেছে! কিন্তু সেই ক্যাচ যদি ডেভিড ওয়ার্নারের হয় তো কথায় নেই৷ ব্যক্তিগত ১০ রানে ওয়ার্নারের ক্যাচ ছাড়েন সাব্বির রহমান৷ জীবন দান পেয়ে ১৬৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন বাঁ-হাতি অজি ওপেনার৷ ওয়ার্নার ও খোয়াজার ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশের সামনে ৩৮২ রানের টার্গেট রাখল অস্ট্রেলিয়া৷ বৃষ্টির জন্য ৪৯ ওভারের পর বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ ছিল৷ পরে খেলা শুরু হলে শেষ ওভারে ১৩ রান যোগ করে অস্ট্রেলিয়া৷

আগের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৩২২ রান তাড়া করে সহজ জয় পেয়েছে বাংলাদেশে৷ তবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে ৩৬৮ রান তাড়া করা সহজ হবে না শাকিবদের কাছে৷ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের মাটিতে অতীতে ওয়ান ডে ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশের৷ ২০০৫-এ ন্যাটওয়েস্ট ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২৫০ রান তাড়া করে ম্যাচ জিতেছিল হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশে৷ সেই দলেও ছিলেন এই বিশ্বকাপ বাংলাদেশ ক্যাপ্টেন মাশরাফি মোর্তাজা৷

ট্রেন্টব্রিজে এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অজি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ৷ শুরু থেকেই বাংলাদেশ বোলারদের উপর আধিপত্য দেখান অজি ওপেনাররা৷ ব্যক্তিগত ১০ রানে জীবনদান পাওয়ার পর আর পিছন পিরে তাকাননি ওয়ার্নার৷ প্রথম ১০ ওভারে কোনও উইকেট না-হারিয়ে ৫৩ রান তোলে ওয়ার্নার ও ফিঞ্চ জুটি৷ তারপর ওপেনিং জুটিতে ১২১ রান যোগ করে অস্ট্রেলিয়া৷ ব্যক্তিগত ৫৩ রানে ড্রেসিংরুমে ফেরেন অজি অধিনায়ক৷

কিন্তু ওয়ার্নার পিছন ফিরে তাকাননি৷ বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাটিং করে এই বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটি করে ফেলেন ওয়ার্নার৷ এক বছরের নির্বাসন কাটিয়ে জাতীয় দলে ফিরেই স্বপ্নের ফর্মে ওয়ার্নার৷ বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্যাটে জবাব দিতে মুখিয়ে ছিলেন বাঁ-হাতি অজি ওপেনার৷ টনটনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১০৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলার পর এদিন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দুরন্ত সেঞ্চুরি করেন ওয়ার্নার৷ বাংলাদেশ বোলারদের পিটিয়ে ১৬৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি৷ মুলত তাঁর ব্যাটে ভর করে পাঁচ উইকেটে ৩৮১ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া৷ ৮৯ রান করেন উসমান খোয়াজা৷ এছাড়া ১০ বলে ৩২ রান করেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল৷

গত বছর মার্চে কেপ টাউন টেস্টে স্যান্ডপেপার গেট কাণ্ডে তৎকালীন অজি অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের সঙ্গে নির্বাসিত হন ওয়ার্নার৷ নির্বাসন কাটিয়ে জাতীয় দলে ফিরলেও ভাইস-ক্যাপ্টেন্সি হারাতে হয় বাঁ-হাতি ওপেনারকে৷ তবে ব্যাট হাতে সব সমালোচনার জবাব দিচ্ছেন ওয়ার্নার৷ ব্রিস্টলে প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয়েছিল ওয়ার্নারের৷ ৮৯ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি৷ কারণ ২০৭ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ৩৫ ওভারেই তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া৷ ফলে সেঞ্চুরি থেকে ১১ রানে দূরেই থেমে যেতে হয় ওয়ার্নারকে৷ ওভালে ভারতের বিরুদ্ধে ৩৫২ রান তাড়া করার ক্ষেত্রেও হাফ-সেঞ্চুরি এসেছিল ওয়ার্নারের ব্যাট থেকে৷ ৫৬ রান করে যুবেন্দ্র চাহালের বলে ড্রেসিংরুমে ফিরেছিলেন অজি ওপেনার৷ তার পর টনটনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ার্নারের সেঞ্চুরিতে ভর করে তিনশো রানের গণ্ডি টপকে ছিল অস্ট্রেলিয়া

ট্রেন্ট ব্রিজে এদিন ব্যাট হাতে বাংলাদেশ বোলারদের উপর নির্মম ছিলেন ওয়ার্নার৷ শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত ১৬৬ রানে সৌম্য সরকারের বলে ড্রেসিংরুমে ফেরেন তিনি৷ ১৪৭ বলের ইনিংসে পাঁচটি ওভার বাউন্ডারি ও ১৪টি বাউন্ডারি মারেন ওয়ার্নার৷ এর ফলে দু’টি সেঞ্চুরি-সহ ৪৪৭ রান করে এই বিশ্বকাপে সবার উপরে চলে গেলেন ওয়ার্নার৷ দু’টি করে সেঞ্চুরি রয়েছে ভারতের রোহিত শর্মা, ইংল্যান্ডের জো রুট এবং বাংলাদেশের শাকিব আল হাসানের৷ মোট রানের ক্ষেত্রে ওয়ার্নারের পরে রয়েছেন ফিঞ্চ (৩৯৬), শাকিব (৩৮৪), রুট (৩৬৭) ও রোহিত (৩১৯)৷ চলতি বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ক্ষেত্রেও এদিন অজি ক্যাপ্টেন ফিঞ্চের ১৫৩ রানকে এদিন টপকে যান ওয়ার্নার৷