লন্ডন: ট্রফি ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই যে বিলেতে পাড়ি দিয়েছে তারা, প্রতি ম্যাচেই জানান দিচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। ভারতের বিরুদ্ধে পা হড়কালেও গত ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে দুরন্ত কামব্যাক করেছিল অজিরা। শনিবাসরীয় ওভালে শ্রীলঙ্কাকে ৮৭ রানে দুরমুশ করে বিশ্বকাপে চতুর্থ জয় তুলে নিল অস্ট্রেলিয়া।

প্রথমে ব্যাট হাতে অধিনায়ক ফিঞ্চের দেড়শতরান, পরে বল হাতে বোলারদের দাপটে লিগ টেবিলে শীর্ষে অজিরা। অধিনায়কোচিত ১৫৩ রানের ইনিংস খেলার পথে এদিন নজির গড়লেন অজি দলনায়ক। রিকি পন্টিংকে টপকে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের নজির গড়লেন ফিঞ্চ। এর আগে ২০০৩ বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে রিকি পন্টিংয়ের ১৪০ রানের অপরাজিত ইনিংসই অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে এতদিন ছিল সর্বোচ্চ। এদিন সেই নজির ভেঙে নয়া নজির গড়লেন ফিঞ্চ। কাজে এল না শ্রীলঙ্কা দলনায়ক দিমুথ করুণারত্নের ৯৭ রান।

গত দু’টি ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ার পর লন্ডনে এদিন বৃষ্টির ভ্রুকুটি উপেক্ষা করেই মাঠে নামার সুযোগ পান লঙ্কান ক্রিকেটাররা। টস জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে আবহাওয়ার ফায়দা তুলতে চেয়েছিলেন লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে। কিন্তু বাস্তবে তা ব্যুমেরাং হয়ে ফেরে। ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে ৮০ রান যোগ করেন অধিনায়ক ফিঞ্চ। গত ম্যাচের শতরানকারী ২৬ রানে ফিরে যাওয়ার পর দ্রুত ফেরেন খোয়াজাও (১০)। এরপর তৃতীয় উইকেটে প্রাক্তন অধিনায়কের সঙ্গে ১৭৩ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে রানের পাহাড়ে ওঠার দিশা দেখান অ্যারন ফিঞ্চ।

স্টিভ স্মিথের সঙ্গে জুটি বেঁধে শ্রীলঙ্কান বোলারদের বেদম প্রহার করে প্রথমে শতরান ও পরে দেড়শতরান পূর্ণ করেন ফিঞ্চ। ওয়ান ডে কেরিয়ারে এটি তাঁর ১৪ তম শতরান। ৪২.৪ ওভারে ফিঞ্চ যখন আউট হন, দলের রান তখন ২৭৩। অজি দলনায়কের ১৫৩ রানের ইনিংস এদিন সাজানো ছিল ১৫টি চার ও ৫টি ছয়ে। অধিনায়কের পাশাপাশি ৫৯ বলে ৭৩ রানের মূল্যবান ইনিংস আসে স্মিথের ব্যাট থেকে। ২৫ বলে অপরাজিত ৪৬ রানের দুরন্ত ক্যামিও খেলেন ম্যাক্সওয়েল। শেষদিকে সতীর্থ ব্যাটসম্যানদের অসহযোগীতায় ৩৫০ রানের গন্ডিতে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হন ম্যাক্সওয়েল। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৩৪ রানে শেষ করে অস্ট্রেলিয়া।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে অজি বোলারদের দুরন্ত প্রত্যাঘাত ছুঁড়ে দেন দ্বীপ রাষ্ট্রের দুই ওপেনার। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বোলিং লাইন আপকে সাধারন স্তরে নামিয়ে ওপেনিং জুটিতে ১১৫ রান তোলেন করুনারত্নে-কুশল পেরেরা জুটি। ৫২ রানের মারকাটারি ইনিংস খেলে স্টার্কের শিকার হন পেরেরা। ১৬ রানে আউট হন করুণারত্নে। শতরান থেকে মাত্র ৩ রান দূরে সাজঘরে ফেরেন শ্রীলঙ্কা কাপ্তান। তাঁর ৯৭ রানের ইনিংস সাজানো ছিল ৯টি বাউন্ডারিতে। ৩২.১ ওভারে দলীয় ১৮৬ রানের মাথায় অধিনায়ক ফিরতেই ধস নামে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইন আপে। ক্রমেই বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন স্টার্ক, বেহরেনড্রফ, রিচার্ডসনরা। বড় রানের লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়ার জন্য আর বড় কোনও পার্টনারশিপ গড়ে ওঠেনি ‘৯৬ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

টেল এন্ডারদের হতশ্রী পারফরম্যান্সে ৪৫.৫ ওভারে ২৪৭ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। ৪ উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক। রিচার্ডসন ও কামিন্স নেন যথাক্রমে ৩টি ও ২টি করে উইকেট। বেহরেনড্রফের দখলে ১টি উইকেট। সবমিলিয়ে ব্যাটে-বলে শ্রীলঙ্কাকে নাস্তানাবুদ করে ৮৭ রানে মসৃণ জয় ছিনিয়ে নেয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। একইসঙ্গে ৫ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে এই মুহূর্তে লিগ টেবিলের শীর্ষে তারা। অন্যদিকে গত দু’ম্যাচ বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় হার স্বীকার করতে হল সিংহলীদের। ৫ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে ৪ নম্বরে শ্রীলঙ্কা।