টনটন: পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচ বার বার গতিমুখ বদলে শেষমেশ ঢলে পড়ল অস্ট্রেলিয়ার দিকে৷ টনটনে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৪১ রানে পরাজিত করে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল অস্ট্রেলিয়া৷

টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ৪৯ ওভারে ৩০৭ রানে অলআউট হয়ে যায়৷ দুরন্ত শতরান করেন ডেভিড ওয়ার্নার৷ অধিনায়কোচিত হাফসেঞ্চুরি করেন অ্যারন ফিঞ্চ৷ নাগালের বাইরে চলে যেতে বসা ম্যাচে পাকিস্তানকে লড়াইয়ে ফেরান মহম্মদ আমের৷

জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ৪৫.৪ ওভারে ২৬৬ রানে অলআউট হয়ে যায়৷ ইমাম, বাবর, হাফিজ, সরফরাজ, হাসান, রিয়াজরা সম্মিলিতভাবে লড়াই চালালেও শেষরক্ষা করতে পারেননি৷ কামিন্স, স্টার্ক, রিচার্ডসনরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাকিস্তান ইনিংসকে ভাঙার দায়িত্ব ভাগ করে নেন৷

মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় ঘাসে ঢাকা পিচে টসে জিতে বোলিং নেওয়াটা যদি পাকিস্তানের প্রাথমিক সুবিধা হয়ে থাকে, তবে দুই ওপেনারের ব্যাটে ভর করে ইনিংসের শক্ত ভিত গড়া নিঃসন্দেহে অস্ট্রেলিয়ার হাতে এনে দেয় ম্যাচের রাশ৷ একসময় সাড়ে তিনশো রানের ইঙ্গিত দেওয়া অস্ট্রেলিয়াকে ৩০৭ রানে আটকে রাখার নিশ্চিতভাবেই পাকিস্তানের কৃতিত্ব এবং এভাবেই ম্যাচে নিজেদের ভাসিয়ে রাখে সরফরাজ অ্যান্ড কোং৷

পালটা ব্যাট করতে নামা পাকিস্তান শুরুতেই জোড়া উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়৷ পরে হাফিজ ও ইমাম উল হক দলের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেন৷ মিডল অর্ডারে পর পর উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান যখন নিশ্চিত হারের মুখে, তখন সরফরাজের সঙ্গে জুটি বেঁধে ওয়াহাব রিয়াজ পুনরায় অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে দেয়৷ সুতরাং বার বার পট পরিবর্তন করে অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান ম্যাচ৷ শেষমেশ অস্ট্রেলিয়া কাঙ্খিত জয়ে পৌঁছে যায় পাকিস্তানের লেজ ছেঁটে দিয়ে৷

ওপেনিং জুটিতে ১৪৬ রান যোগ করে অস্ট্রেলিয়া৷ স্লিপে অসিফ আলির হাত থেকে একবার জীবন দান পেয়ে অ্যারন ফিঞ্চ ৮২ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন৷ ৮৪ বলের ইনিংসে তিনি ৬টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন৷ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শেষ ছ’টি ওয়ান ডে ম্যাচে ফিঞ্চের ব্যক্তিগত সংগ্রহ দাঁড়ায় যথাক্রমে ১১৬, অপরাজিত ১৫৩, ৯০, ৩৯, ৫৩ ও ৮২৷ ফিঞ্চকে আউট করেন মহম্মদ আমের৷

স্টিভ স্মিথ ১৩ বলে ১০ রান করে মহম্মদ হাফিজের শিকার হন৷ ব্যাটিং অর্ডারে প্রোমোশন পেয়ে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ১০ বলে ২০ রান করে শাহীন আফ্রিদির বলে বোল্ড হন৷ ইতিমধ্যে ওয়ার্নার ওয়ান ডে কেরিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন৷ ১১টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ১১১ বলে ১০৭ রান করে আফ্রিদির দ্বিতীয় শিকার হন তিনি৷

আমের একে একে তুলে নেন খোওয়াজা (১৮), শন মার্শ (২৩), অ্যালেক্স ক্যারি (২০) ও মিচেল স্টার্কের (৩) উইকেট৷ মাঝে কুল্টার-নাইলকে (২) রিয়াজ ও কামিন্সকে (২) হাসান আলি ফিরিয়ে দেন৷ ১ রানে অপরাজিত থাকেন রিচার্ডসন৷ আমের ১০ ওভারে ৩০ রানের বিনিময়ে ৫টি উইকেট নেন৷

পাকিস্তানের হয়ে ইমাম উল হক সর্বাধিক ৫৩ রান করে আউট হন৷ খাতা খুলতে পারেননি অপর ওপেনার ফকর জামান৷ মিডল অর্ডারে বাবার আজম, মহম্মদ হাফিজ ও সরফরাজ আহমেদের অবদান যথাক্রমে ৩০, ৪৬ ও ৪০ রান৷ ব্যর্থ হন শোয়েব মালিক (০) ও আসিফ আলি (৫)৷ শেষের দিকে হাসান আলি ৩২ ও ওয়াহাব রিয়াজ ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন৷ শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন আমের৷ ১ রানে অপরাজিত থাকেন শাহীন৷

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্যাট কামিন্স ৩৩ রানে ৩ উইকেট নেন৷ ২টি করে উইকেট পেয়েছেন স্টার্ক ও রিচার্ডসন৷ ১টি করে উইকেট কুল্টার-নাইল ও পার্টটাইমার ফিঞ্চের৷ ম্যাচের সেরা হয়েছেন ওয়ার্নার৷ এই জয়ের সুবাদে ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে অস্ট্রেলিয়া৷ ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নেট রানরেটের নিরিখে লিগ টেবিলের শীর্ষে রয়েছে নিউজিল্যান্ড৷ ইংল্যান্ড ও ভারত রয়েছে যথাক্রমে তিন ও চার নম্বরে৷