নয়াদিল্লি: প্রতিশোধের বৃত্ত পূর্ণ করল অস্ট্রেলিয়া৷ বছরের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার মাটি থেকে প্রথমবার টেস্ট ও দ্বিপাক্ষিক ওয়ান ডে সিরিজ জিতে ফিরেছিল টিম ইন্ডিয়া৷ সূচিতে টেস্ট ক্রিকেট না থাকলেও পালটা ভারত সফরে এসে টি-২০ ও ওয়ান ডে সিরিজের দখল নিল অজিরা৷

ভারতকে তাদের ঘরের মাঠে দু’ম্যাচের টি-২০ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল অস্ট্রেলিয়া৷ এবাং ০-২ পিছিয়ে থাকা অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে পাঁচ ম্যাচের একদিনের সিরিজ জিতল অ্যারন ফিঞ্চরা৷ হায়দরাবাদ ও নাগপুরে প্রথম দু’টি ওয়ান ডে জিতে নেয় ভারত৷ রাঁচি ও মোহালিতে পালটা জয় তুলে নিয়ে সিরিজে ২-২ সমতা ফেরায় অস্ট্রেলিয়া৷ দিল্লির নির্নায়ক একদিনের ম্যাচে ভারতকে ৩৫ রানে হারিয়ে দেয় অজিরা৷

আরও পড়ুন: আইপিএলের আগে জাতীয় দলের সঙ্গে আলোচনায় স্মিথ-ওয়ার্নার

কোটলায় টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৭২ রান তোলে৷ জবাবে ভারত ৫০ ওভারে ২৩৭ রান তুলে অলআউট হয়ে যায়৷

মোহালিতে অস্ট্রেলিয়া যেখানে শেষ করেছিল, কোটলায় সেখান থেকে শুরু করে তারা৷ ওপেনিংয়ে ৭৬ রান যোগ করে খোয়াজা-ফিঞ্চ জুটি৷ ১৫তম ওভারে অজি ক্যাপ্টেন ব্যক্তিগত ২৭ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরলেও আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিকারী পিটার হ্যান্ডকম্বসকে নিয়ে দলের ভিত আরও মজবুত করেন খোয়াজা৷ কিন্তু ওয়ান ডে কেরিয়ারে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পরই ভুবনেশ্বর কুমারের শিকার হন খোয়াজা৷

আরও পড়ুন: ইডেন থেকে ম্যাচ সরবে না বলে আশাবাদী নাইট শিবির

শুরুটা দারুণ হলেও ভারতীয় স্পিনারদের বিরুদ্ধে এদিন বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি অজি মিডল-অর্ডার৷ মাত্র এক রানে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে ফেরান রবীন্দ্র জাদেদা৷ শট কভারে ক্যাপ্টেন কোহলির হাতে ক্যাচ দিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন ম্যাক্সি৷ এর পর থেকে নিময়িত উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া৷

ব্যক্তিগত ৫২ রানে হ্যান্ডকম্বসকে প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখান শামি৷ তার পর আগের ম্যাচে ৪৩ বলে ৮৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলা অ্যাস্টন টার্নারকে এদিন ব্যক্তিগত ২০ রানে ড্রেসিংরুমে ফেরান কুলদীপ যাদব৷ মার্কাস স্টইনিস (২০) ও অ্যালেক্স ক্যারি (৩) বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি৷ঝাই রিচার্ডসন ২৯ রান করে রানআউট হন৷ ব্যক্তিগত ১৫ রানে সাজঘরে ফেরেন প্যাট কামিন্স৷

আরও পড়ুন: টেস্ট ক্রিকেটেও আসতে চলেছে ফ্রি-হিট

ভারতের হয়ে ৪৮ রানে ৩টি উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার৷ মহম্মদ শামি ও রবীন্দ্র জাদেজী নিয়েছেন দু’টি করে উইকেট৷ একটি উইকেট নিয়েছেন কুলদীপ যাদব৷ বিজয় শঙ্কর দলে থাকলেও কোহলি তাঁকে বোলার হিসাবে ব্যবহার করেননি৷

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারত নিয়মিত অন্তরে উইকেট হারাতে থাকে৷ রোহিত শর্মা দলের হয়ে সর্বাধিক ৫৬ রান করে আউট হন৷ শিখর ধাওয়ানের সংগ্রহ ১২৷ বিরাট কোহলি ঘরের মাঠে ২০ রানের বেশি যোগদান রাখতে পারেননি৷ঋষভ পন্ত (১৬) টিম ম্যানেজমেন্টর আস্থার মর্যাদা দিতে ব্যর্থ৷ বিজয় শঙ্কর ব্যাট হাতে ১৬ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেননি৷ খাতা খুলতে ব্যর্থ রবীন্দ্র জাদেজা৷

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে ব্রিটিশদের সম্ভাবনা দেখছেন গাভাসকর

শেষদিকে কেদার যাদব ৪৪ ও ভুবনেশ্বর কুমার ৪৬ রান করে ভারতকে দু’শোর গণ্ডি পার করান৷ না হলে একসময় ১৩৬ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে বসেছিল টিম ইন্ডিয়া৷ শামি ৩ ও কুলদীপ ৮ রান করে আউট হতেই ভারতীয় ইনিংসে যবনিকা পড়ে যায়৷

অ্যাডাম জাম্পা ৪৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট নেন৷ দু’টি করে উইকেট নিয়েছেন কামিন্স, রিচার্ডসন ও স্টোইনিস৷ একটি উইকেট নাথন লায়নের৷ ম্যাচের সেরা হয়েছেন উসমান খোওয়াজা৷ সিরিজ সেরাও তিনি৷ ভারত সফরের ঠিক আগে জল্পনা চলছিল যে স্মিথ-ওয়ার্নার বিশ্বকাপের দলে ফিরলে সম্ভবত জায়গা ছাড়তে হতে পারে খোওয়াজা ও হ্যান্ডসকম্বকে৷ ভারত সফরের পারফরম্যান্স দিয়ে খোওয়াজা সম্ভবত বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ফেললেন৷ সিরিজে দারুণ ব্যাটিং করেছেন হ্যান্ডসকম্বও৷