সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : মহালয়ার আর বেশিদিন বাকি নেই। তবে পুজো আসতে এখন অনেক দেরী। এবার আশ্বিনের শারদ প্রাতে বাঙালি দেবী চণ্ডীর জয়গান শুনতে অভ্যস্ত একজনের গলাতেই। তাঁর আগেই এলাকায় মানুষ শুনল চণ্ডীপাঠ। অবাক হয়ে অনেকেই শুনলেন। অনেকের মনেই প্রশ্ন। এখন এসব কেন? ওঁরা জানালেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে এটা তাঁদের বিশেষ শ্রদ্ধা।

কীর্ণাহারের আর তাঁকে দেখা যাবে না পুজো করতে। এবারের দুর্গা পুজোয় কীর্ণাহারের বাড়িতে তার গলায় শোনা যাবে না চণ্ডীপাঠ। আজ নেই প্রণব মুখোপাধ্যায়। তবু তাঁর সেই চণ্ডীপাঠ শোনা যাবে। পাবেন অরবিন্দ সেতু সার্বজনীনে। এবারের পুজো এমনই সিদ্ধান্ত এই ক্লাবের। তাঁর শেষ যাত্রার দিনে ক্লাব সদস্যরা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিকে শ্রদ্ধা জানালেন চণ্ডীপাঠের মাধ্যমেই।

অরবিন্দ সেতু সার্বজনীনের মূল থিম শতবর্ষে সত্যজিতকে শ্রদ্ধা জানিয়ে। পথের পাঁচালি ফুটে উঠবে তাঁদের পুজা প্রাঙ্গনে। সঙ্গে যোগ হল আরও এক ভারতরত্ন বাঙালি। পুজো প্যান্ডেলে তাঁরা শ্রদ্ধা জানাবেন প্রণববাবুকেও।

তবে তাঁর আগে এক অন্য পদ্ধতিতে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন অরবিন্দ সেতু সার্বজনীনের সদস্যরা। সোমবার বিকালে মারা গিয়েছেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। রাতের মধ্যে তাঁকে বিশেষ শ্রদ্ধা জানানোর কথা ভেবে নেয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ঠিক করে এবার আর তাঁর বীরভূমের বাড়িতে যেহেতু তাঁর চণ্ডীপাঠ শোনা যাবে না বা তাঁর প্রাত্যহিক জীবনের সঙ্গে যে চণ্ডীপাঠ জড়িয়ে তাও আর হবে না। তাই প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতিকে তাঁরা চণ্ডীপাঠেই শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। করলেনও তাই। রাতের মধ্যে ঠিক করে সকালের মধ্যে সম্মান জানানোর আয়োজন করে ফেলেন ক্লাব কর্তারা। প্রদীপ জ্বালিয়ে মাল্য দান করে তাঁরা সবাই মিলে করলেন চণ্ডীপাঠ।

ক্লাবের সদস্য মিন্টু পাত্র জানান, ‘এবছর অরবিন্দ সেতু সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজোর থিম সত্যজিৎ রায়ের অপুর পাঁচালি। পাশাপাশি প্রণববাবুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ওনার কণ্ঠে উচ্চারিত চণ্ডীপাঠের রেকর্ড জোগাড় করব বলে ঠিক করেছি আমরা।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডক্টর জয়ন্ত কুশারি।

তিনি জানান, ‘প্রণব মুখোপাধ্যায় একাধারে একজন নেতিবাচক বিচক্ষণ এবং সাহসী ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর দূরদর্শিতা ছিল অপরিসীম এবং যেখানে মানুষ ইংরেজরা আমাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে ১৩ সংখ্যাটি সবার জন্য অশুভ। কিন্তু এই কুসংস্কারকে দূর করেছিলেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। তিনি সবসময় ১৩ সংখ্যাটিকেই বেছে নেন।

তিনি দিল্লিতে যে ক’টি বাসভবনে ছিলেন সবকটি সংখ্যা ছিল ১৩ এবং তিনি ছিলেন দেশের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি। এমনকি তিনি গতকাল সোমবার যখন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সেই দিনটিও ছিল তিথি অনুযায়ী ত্রয়োদশী এবং শাস্ত্র মতে বলা হয়েছে ত্রয়োদশী সংখ্যা শুভ। এমনকি চণ্ডীপাঠেও উঠে এসেছে এই সংখ্যাটি।’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।