কলকাতা: সামনেই বড়দিন ও বর্ষবরণ৷ তার আগেই সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ৷ ধৃত এক মাদক পাচারকারীকে জেরা করে তাদের কাছে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ এসকর্ট সার্ভিসের সুন্দরী মহিলাদের মাধ্যমে মাদক পাচার করা হত নাইট ক্লাবে৷

পুলিশ শনিবার রাতে শেক্সপিয়র সরণি এলাকার রাসেল স্ট্রিট থেকে গ্রেফতার করেছে এক মাদক পাচারকারীকে৷ ধৃত আদিত্য শিখওয়াল হুগলির উত্তরপাড়ার বাসিন্দা৷ তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে সাত প্যাকেট এমডিএমএ ট্যাবলেট৷ যা পার্টি ড্রাগ নামে পরিচিত ৷ মাদকাসক্ত পার্টি হপারদের কাছে এটি ‘মলি’ নামেও পরিচিত৷ তাছাড়া এমডিএমএ ট্যাবলেট এর একাধিক কোড নেম রয়েছে ৷ স্প্রাইট, নাইক, ফেসবুক নামেও ডাকা হয় এই ড্রাগটিকে৷

সোমবার ধৃত আদিত্য শিখওয়ালকে আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে৷ পুলিশ আদিত্যকে নিজেদের হেফাজতে পেয়ে জেরা করতেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ আদিত্য সুন্দরী মহিলাদের মাধ্যমে দিল্লি থেকে কলকাতায় মাদক নিয়ে আসতো৷ এসকর্ট সুন্দরীদের মাধ্যমে তা পৌঁছে যেত নাইট ক্লাবে৷

তদন্তে নেমে লালবাজারের গোয়েন্দারা জানতে পারেন, পোস্তায় আদিত্যর বাবার হার্ডওয়্যারের ব্যবসা ছিল৷ ওই দোকান বিক্রির টাকা দিয়ে সুন্দরী যুবতীদের নিয়ে ‘এসকর্ট সার্ভিস’-এর কারবার শুরু করে আদিত্য শিখওয়াল৷ মাদক পাচারের পাশাপাশি নাইট ক্লাবে এসকর্ট যুবতীদের পাঠাত সে।

মূলত শহরের নাইট ক্লাবগুলোতে বিদেশি মাদক বা ‘পার্টি ড্রাগ’ বিক্রি করত আদিত্য শিখওয়াল৷ দিল্লি থেকে আনা হত ওই পার্টি ড্রাগ৷ তার জন্য দিল্লিতে পাঠানো হত এসকর্ট সুন্দরীদের। তারাই দিল্লির এজেন্টের কাছ থেকে কলকাতায় নিয়ে আসত মাদক। ধৃত আদিত্য শিখওয়ালের কাছা থেকে উদ্ধার হয়েছে সাত প্যাকেট এমডিএমএ ৷ আন্তর্জাতিক বাজারে এই ড্রাগের প্রতি গ্রামের দাম ৬-১০ হাজার টাকা৷