স্টাফ রিপোর্টার, কাঁথি: মেয়ের প্রেমিককে পছন্দ হয়নি পরিবারের। তাই প্রেমিকের মুখে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টা চালাল প্রেমিকার পরিবার। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর থানার মহম্মদপুর গ্রামে। ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এদিকে অভিযোগের ভিওিতে মেয়ের মা-সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার অভিযুক্তদের কাঁথি আদালতে হাজির করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূএে জানা গিয়েছে, ভগবানপুর ১ ব্লকের মহম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা রতন মান্নার সঙ্গে বেনাউদা গ্রামের নবম শ্রেণীর ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রতনের পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল নয়। রতনের বাবা ভোলানাথ মান্না চাষ করে কোনও রকমে সংসার চালান। ভোলানাথ মান্নার দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে কাজ করলেও, ছোটো ছেলে রতন এখনও বেকার। এদিকে তাঁদের দুজনের প্রেম সম্পর্ক দুই পরিবারের লোকেরা জেনে ফেলে। ছেলের বাড়িতে এই সম্পর্ক মেনে নিলেও মেয়ের বাড়ি তা মানতে নারাজ।

এরই মধ্য প্রেমিকার পরিবার ভগবানপুরে গুড়গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে বিয়ের দেখাশুনা শুরু করেন। দুই পরিবার বিয়ের জন্য তৈরি হয়। তার মাঝেই ছেলের বাড়ির লোক জানতে পারেন পাত্রীর সঙ্গে মহম্মদপুরে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এই কথা জানতে পেরেই বিয়ে ভেঙে দেয় তাঁরা। এদিকে বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় এই ঘটনার জন্য রতনকে দায়ী করেন ছাএীর পরিবার।

জানা গিয়েছে, এদিন বিয়ের কথাবার্তা বলবে বলে রতনের বাড়িতে আচমকা হাজির হয় মেয়ের মা ও আত্মীয়রা। তাঁরা রতনের বাড়িতে হাজির হয়ে জানায়, বিয়ের কর্থাবার্তা বলার জন্য তাঁরা এখানে এসেছেন। ফলে ছেলের বাবা প্রতিবেশীদের ডাকতে চলে যান। এমন সময় রতন ও তাঁর দাদা স্বপনকে ঘরে একা পেয়ে মারধোর শুরু করে মেয়ে পরিবার ও আত্মীয়রা। তারপরে রতনের মুখে জোর করে বিষ ঢেলে দেয় প্রেমিকার মা ফুল্লরা। এই ঘটনায় রতনের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলেও ততক্ষণে মেয়ের মা ও অন্য আত্মীয়রা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।

রতনকে দ্রুত উদ্ধার করে ভগবানপুর গ্রামীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রতনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে অন্যত্র স্থান্তরিত করেন। বৃহস্পতিবার বিকালে তাঁকে তমলুকের একটি নাসিংহোমে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঐ নাসিংহোমে চিকিৎসাধিন রয়েছে সে।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।