স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: মাত্র ১০দিনের নোটিশে বিবিএ, বিসিএ এবং বায়োটেকনোলজির তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা করায় সোমবার ব্যাপক বিক্ষোভ দেখালো বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন কলেজের ছাত্রছাত্রীরা।

আরও পড়ুন- মৌসম ভালো কিন্তু ডালু খারাপ, প্রকাশ্য জনসভায় বললেন শুভেন্দু

এরই পাশাপাশি এদিন অভিযোগ উঠেছে বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীদের উপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা হামলা চালিয়েছে। ছাত্রীদের গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এদিন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন কলেজের এই সমস্ত কোর্সের ছাত্রছাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, আগামী ১ এপ্রিল থেকে এই পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে।

আরও পড়ুন- এসএসসির অনশনকারীদের পাশে এবার প্রেসিডেন্সির ছাত্ররা

মাত্র ১০দিন আগে এই নোটিশ দেওয়ায় চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন অসংখ্য ছাত্রছাত্রীরা। ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, দোলের ছুটির ঠিক আগে এই নোটিশ দেবার পর ২দিন ছুটি ছিল। ফলে ছাত্রছাত্রীদের ফর্ম ফিলাপ নিয়ে চরম জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, মাত্র একদিনের মধ্যেই ফর্ম ফিলাপ করা গেলেও সেই পূরণ করা ফর্ম বিভিন্ন কলেজ থেকে তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এসে পৌঁছাবে ২৬ মার্চ।

পরবর্তী ২৭ ও ২৮ মার্চ এ্যাডমিট কার্ড তৈরি করতেই সময় চলে যাবে। এরপর তা কলেজে কলেজে পৌঁছানোর পর সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ছাত্রছাত্রীরা তা হাতে পাবেন ২৯ বা ৩০ মার্চ। ৩১ মার্চ রবিবার ছুটি। ফলে এ্যাডমিট কার্ডে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের কোনো রাস্তাই খোলা থাকছে না ছাত্রছাত্রীদের কাছে। শুধু তাই নয়, উচ্চশিক্ষা পেতে ইচ্ছুক অনেক দুঃস্থ ছাত্রছাত্রী এই ঘোষণায় ফর্ম ফিলাপের জন্য প্রায় সাড়ে বারো হাজার টাকা জোগাড় করতেও তাঁদের সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন- ‘লোকসভায় কংগ্রেস জিতলে পাকিস্তানে দিওয়ালি হবে’, বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

এই ঘটনায় এদিন ছাত্রছাত্রীরা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজবাটি ক্যাম্পাসে উপাচার্যের ঘরের সামনে বিক্ষোভও দেখান। তাঁদের দাবী অবিলম্বে এই পরীক্ষা ন্যূনতম ১৫দিন পিছিয়ে দিতে হবে। এরই মাঝে অভিযোগ উঠেছে,বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় কর্মী ছাত্রছাত্রীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজবাটি ক্যাম্পাস থেকে বার করে দেবার চেষ্টা করেন। তা নিয়ে রীতিমত উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ছাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে।

যদিও এই ব্যাপারে এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, ছাত্র ছাত্রীদের দাবী যুক্তি যুক্ত। কন্ট্রোলার সেকশনের এত দ্রুততার সঙ্গে কম সময়ের নোটিশে পরীক্ষার দিনক্ষণ নির্ধারণ ঠিক হয়নি। যদিও সমস্ত সিদ্ধান্তটাই নেওয়া হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে। তবে উপাচার্যের সাথে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি এদিন ছাত্রছাত্রীদের আশ্বস্ত করেছেন।

অন্যদিকে সোমবার এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এই তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা ১ এপ্রিলের পরিবর্তে আগামী ৮ এপ্রিল থেকে নেওয়া হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।