বিজয়ওয়াড়া: দুটি পৃথক ঘটনায় প্রায় একই জায়গায় মদ্যপদের হাতে নিগৃহীত হতে হল দুই জুনিয়র চিকিৎসককে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ার ঘটনা। শুক্রবার রাতে ডিউটি সেরে ফেরার পথে চিকিৎসদের হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ।

পুলিশ জানিয়েছে, এক জুনিয়ার চিকিৎসক নিজের গাড়ি করে ডিউটি সেরে ফিরছিলেন। তখনই তাঁর রাস্তা আটকায় চার মদ্যপ যুবক। তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়। কোনওক্রমে নিজেকে বাঁচিয়ে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে আসেন তিনি।

এরপর আরও এক জুনিয়র ডাক্তার নিজের বাইক নিয়ে ওই একই রাস্তা দিয়ে ফিরছিলেন, তার ওপর চড়াও হয় ওই মদ্যপ অভিযুক্তরা। তার বাইকে ভাঙচুর চালানো হয়। তারপর সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

ওই চিকিৎসকের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। কি কারণে এই হামলা চালানো হল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এছাড়াও ওই অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার জন্য এলাকা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে, ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রের কাছে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা দাবি করেছিল। করোনার ভাইরাস আবহে দেশ জুড়ে চিকিৎসকদের ওপর নিগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে বলে অভিযোগ আইএমএ-র।

কেন্দ্র তার প্রেক্ষিতে জানায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা চললে এবার কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে অভিযুক্তদের। একটি অর্ডিন্যান্স পাশ করে এমনই ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর। তিনি জানান এবার থেকে স্বাস্থ্যকর্মী, যেমন চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্মী, আশা কর্মী এবং কোভিড-১৯য়ের ক্ষেত্রে যারা অগ্রগণ্য ভূমিকা নিয়েছে, তাঁদের গায়ে হাত তুললে কড়া শাস্তি লাগু হবে।

এপিডেমিক ডিজিজ অ্যাক্ট ১৮৯৭ –এর আওতায় এই অর্ডিন্যান্স পাশ করা হয়েছে। প্রকাশ জাভড়েকর এদিন বলেন সভ্য সমাজে এই ধরণের কার্যকলাপ মেনে নেওয়া যায়না। স্বাস্থ্যকর্মীদের গায়ে হাত তোলা মেনে নেবে না সরকার। অর্ডিন্যান্সে বলা হয়েছে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ৩ মাস থেকে ৫ বছরের জেল হতে পারে। অন্যদিকে দিতে হতে পারে মোটা অঙ্কের জরিমানা। তার পরিমাণ হতে পারে ৫০ হাজার থেকে ২ লক্ষ। এছাড়াও বিশেষ ক্ষেত্রে কারাবাস হতে পারে ৭ বছর পর্যন্ত। সেক্ষেত্রে বাড়বে জরিমানার পরিমাণও। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে অভিযুক্তকে।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব