শঙ্কর দাস, বালুরঘাট: আন্তর্জাতিক নদী চুক্তি লঙ্ঘন করে সীমান্তের ওপারে আত্রেয়ী নদীতে বাঁধ দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ১৪০০মিটার দুরে মোহনপুরা এলাকায় ওই বাঁধের কারণে দক্ষিণ দিনাজপুরে আত্রেয়ী নদীর নাব্যতা একেবারেই কমে গিয়েছে। যে কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষি নির্ভর এই জেলার অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়েছে। আত্রেয়ী নদীর গতি-মুখ বরাবর কংক্রিটের বাঁধ দেওয়ার এই বিষয়টি জানাজানি হতেই পরিবেশ প্রেমীরা আন্দোলনে নেমে পড়েছেন। মাস ছয়েক আগে বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে লিখিত ভাবে জানানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ।

জেলার সুমিত দত্ত ও তুহিন শুভ্র মণ্ডল দুই পরিবেশ প্রেমীই রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের কাছে আবেদন রেখেছেন, যে ক্ষমতায় এসে অবশ্যই যেন আত্রেয়ী নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলেন। ইতিহাস প্রসিদ্ধ এই নদী দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রাণ রেখা। নদীর দুই পাড়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কুমারগঞ্জ পতিরাম চকভৃগু ও বালুরঘাটের মত জনবসতি গড়ে উঠেছে। পাঁচেক আগেও বিশেষ করে খরার মরসুমে জেলার অন্যান্য নদী গুলি শুকিয়ে গেলেও আত্রেয়ী কিন্তু জলপূর্ণ থাকতো। সম্প্রতি এই নদীর জলস্রোত একেবারেই কমে গিয়েছে। জলস্তর কমে যাওয়ার এই ব্যাপারটি সর্বপ্রথম নজরে এসেছে আত্রেয়ীর মৎস্যজীবী ও দুই পারের কৃষিজীবী মানুষদের।

জীবনযাত্রার সমস্ত কিছুই নির্ভর করে আত্রেয়ীর জলের উপর। আত্রেয়ী সত্যাগ্রহ মুভমেন্ট কমিটির সম্পাদক সুমিত দত্ত জানিয়েছেন, প্রায় এক বছর ধরে তাঁরা আন্দোলন ও জনমত গড়ে তোলার কাজ করে চলেছেন। এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক দল গুলির কাছে একটাই আবেদন জেলা ও পরিবেশের স্বার্থে অবশ্যই আত্রেয়ীর বিষয়টি তাঁদের ইস্যু তালিকায় থাকে। পাশাপাশি, ভোটারদের কাছেও আবেদন আত্রেয়ীকে রক্ষার বিষয়টি তাঁরা যেন বিবেচনা করে দেখেন। এব্যাপারে সমস্ত দলের কাছেই লিখিত আবেদন করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।