ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ২০২০- মার্চের মধ্যে তাই এটিএম-এ চালু করা হবে নতুন প্রযুক্তি, সোমবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এমনটাই জানালেন রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে৷ তিনি এদিন জানান, ‘‘এটিএম-এ সিএমএস সিস্টেম চালু করা দরকার৷ এই নতুন প্রযুক্তি চালু করার ব্যাপারে ব্যাংকগুলির সাহায্যের দরকার৷ কথা হয়েছে৷ ওরা সর্বতভাবে সাহায্য করবে বলে জানিয়েছে৷’’

সম্প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যে এটিএম সংক্রান্ত এক নতুন ভীতি কাজ করছে৷ বহু গ্রাহক তাদের এটিএম কার্ড ব্লক করেছেন, অনেকে ব্যাংকে গিয়ে নিজেদের এটিএম কার্ড সারেন্ডার করছেন৷ স্পষ্ট কথায় যেভাবে দিন দিন বাড়ছে ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনা তাতে বিশ্বাস হারাচ্ছেন গ্রাহকরা৷ এই ঘটনা রুখতে তৎপর রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা দফতর৷ প্রত্যেক এটিএম কাউন্টারে রক্ষী রাখার কথা তাই তিনি আগেই বলেছিলেন৷ এবার ব্যাংকগুলির সঙ্গে বৈঠক করে এটিএম-এর নিরাপত্তার বিষয়টি আরও জোরদার করার কথা বলেন তিনি৷

মন্ত্রী জানান, ‘‘এবার থেকে প্রত্যেক কাউন্টারের সঙ্গে ওই এলাকার থানার লিঙ্ক থাকবে৷ কাউন্টারে কোনও দুষ্কর্ম হলে সেই তথ্য পৌঁছে যাবে থানায়৷ ব্যাংক ম্যানেজার ও থানার ডিউটি অফিসারের মধ্যেও যোগাযোগ রাখতে হবে৷’’ এছাড়াও এটিএম-এর ভিতর আলোর ব্যবস্থা আরও ভালো করতেও এদিন ব্যাংকগুলির সঙ্গে আলোচনা হয়৷

তবে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সিসিটিভি ফুটেজ প্রতিদিন চেক করার পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রী৷ দীর্ঘদিন সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয় না বলেই ব্যাংকের নজর এড়িয়ে জালিয়াতি করে পার পেয়ে যাচ্ছে জালিয়াতরা৷ সেক্ষেত্রে ব্যাঙ্কগুলিকে আরও সচেতনতার সঙ্গে কাজ করতে হবে ৷ সঙ্গে সচেতন হতে হবে ব্যাংক ম্যানেজারদেরকেও৷ প্রতিদিন নিয়ম করে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার অভ্যাস তৈরি করতে হবে৷ নইলে বিপদ বাড়বে৷ সোমবার ব্যাংকগুলির সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ব্যাংক ম্যানেজারদের উদ্দেশ্যেই এই পরামর্শই দিলেন রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে৷

একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের দাবি অনুযায়ী এটিএম জালিয়াতিকাণ্ডে শহরে কমপক্ষে ৬০০ জন গ্রাহক ‌ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন৷ যার মধ্যে অন্তত ৪২ জন নিজেদের টাকা খুইয়েছেন৷ এদিনের বৈঠকের পর ক্রেতা সুরক্ষা দফতর আশ্বস্ত করেছে, প্রতারিতরা সকলে টাকা ফেরত পাবে৷ যারা এটিএম কার্ড ব্লক করেছেন কিমবা কার্ড সারেন্ডার করেছে তারা নতুন কার্ড পাবেন৷

নিরাপত্তার বিষয়ে সবরকম ব্যবস্থায় ব্যাংকের পাশে থাকবে রাজ্য প্রশাসন৷ কিন্তু এত করেও কি আটকানো যাবে জালিয়াতদের? সে নিয়ে ধন্দ কাটছে না সাধারণ মানুষের৷