ভাতার: কুড়িয়ে পাওয়া এটিএম কার্ড ব্যবহার করেই এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক দফায় টাকা তুলে নেওয়া হল। এই ঘটনায় এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার পুলিশ।

ভাতার থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাতারের সারদাপল্লির বাসিন্দা সনৎ কুমার পাঁজা ১৩ নভেম্বর একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এটিএম থেকে টাকা তোলেন। টাকা তুলে এটিএম কাউন্টার ছাড়ার সময় তাঁর ব্যাগ থেকে ৪টি এটিএম কার্ড পড়ে যায়। ব্যাগ থেকে এটিএম কার্ড পড়ে গেলেও বিষয়টি নজর এড়িয়ে যায় ওই ব্যক্তির। বাড়ি ফিরে ব্যাগ দেখতেই বিষয়টি নজরে আসে সনৎ পাঁজার। এটিএম কার্ড গুলির পিছনেই পিন নম্বরও লেখা ছিল। আর এতেই ঘটে যায় যাবতীয় বিপত্তি।

কয়েক দফায় সনৎ পাঁজার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়। এরপরই টাকা তুলে নেওয়ার বিষয়টি ভাতার থানায় জানান ওই ব্যক্তি। অভিযোগ পেয়ে কেস রুজু করে তদন্তে নামে ভাতার থানার পুলিশ। সাইবার ক্রাইম বিভাগের সাহায্য নেওয়া হয়। এটিএম কাউন্টার ও আশপাশের এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

ভাতারের যে এটিএম কাউন্টার থেকে সনৎ কুমার পাঁজা টাকা তোলেন তার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এক ব্যক্তির খোঁজ পায় পুলিশ। ফুটেজে ওই ব্যক্তিকে এটিএম কাউন্টারে ঢুকতে দেখা যায়। ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার পর তাঁকে ভাতার থানায় ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। দফায় দফায় পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি জানান, ঘটনার দিন এক মহিলা তাঁকে এটিএম থেকে ২০ হাজার টাকা তুলে দেওয়ার জন্য বলেন। তিনি এটিএম কার্ড ব্যবহার করতে পারেন না বলে জানান তাঁকে।

মহিলার দেওয়া এটিএম কার্ড ব্যবহার করেই ওই ব্যক্তি তাঁকে টাকা তুলে দেন। পুলিশ আরও জানতে পারে, একই ভাবে আরও কয়েকজনের সাহায্য নিয়ে ওই মহিলা এটিএম থেকে টাকা তুলেছেন। আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযুক্ত মহিলার হদিশ পায় পুলিশ। কুড়িয়ে পাওয়া এটিএম কার্ড ব্যবহার করে অন্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগে শেষমেস পুলিশের জালে ধরা পড়ে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার গ্রামের বাসিন্দা পাপিয়া মাঝি। বাড়ি থেকেই পাপায়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত মহিলার কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। ধৃতকে বর্ধমান আদালতে তোলা হলে ৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

পুলিশি জেরায় পাপিয়া মাঝি টাকা তোলার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। ঘটনার দিন এটিএম কাউন্টারের সামনে ৪টি কার্ড পড়ে থাকতে দেখেন পাপিয়া। কার্ডগুলির পিছনেই পিন নম্বর লেখা ছিল। লোভবশতই অন্যের সাহায্যে তিনি টাকা তুলে নেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।