ফাইল ছবি

সুভাষ বৈদ্য, কলকাতা: মঙ্গলবার এলগিন রোডের এটিএমে স্কিমার ডিভাইস ও গোপন ক্যামেরা বসিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার আরও দু’জন৷ এর আগে ঘটনার সময়ই আরেক অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলে ওই এটিএমেরই নিরাপত্তারক্ষী৷ পরে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই বাকি দু’জনকে ধরা হয়৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতারি এড়াতে ঘটনার পরই একটি সেলুনে ঢুকে পড়ে এক অভিযুক্ত৷ দাড়ি, গোঁফ কেটে চেহারা পাল্টে বিমানে মুম্বই পালানোর পরিকল্পনা ছিল তার৷ কিন্তু তার আগেই পুলিশি তৎপরতায় বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় ওই অভিযুক্তকে৷ আরেক প্রতারককে গ্রেফতার করা হয় সিআইটি রোড এলাকা থেকে৷ জানা গিয়েছে, ধৃতরা হল শাহিল খান, রোহিত কুমার ও সুধীর রঞ্জন৷ এর মধ্যে শাহিল খান ও রোহিত কুমার মুম্বইয়ের বাসিন্দা৷ সুধীর রঞ্জন থাকেন উত্তর প্রদেশে৷

ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে এটিএম প্রতারণার অভিযোগে ধৃত তিন জনেই বিগত বেশ কয়েকদিন ধরে কলকাতায় ছিলেন৷ ধৃত এই তিন জনের সঙ্গে এটিএম প্রতারণার দায়ে দিল্লি থেকে ধৃত দুই রোমানিয়ানের যোগাযোগের কথাও জানা যায়৷ বিদেশী প্রতারকদের সঙ্গে এদের কী সম্পর্ক তা খতিয়ে দেখছেন কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) অফিসারেরা৷

সম্প্রতি কলকাতার তিন জায়গা থেকে স্কিমার ডিভাইস ও ক্যামেরা বসিয়ে এটিএম কার্ড ক্লোন করে লাখ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগ ওঠে৷ সেই জালিয়াতির তদন্তে নেমে সিট দিল্লি থেকে দুই রোমানিয়ানকে গ্রেফতার করে৷ বর্তমানে তারা পুলিসের হেফাজতে৷ তাদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে আরও এক রোমানিয়ানের নাম৷ জানা গিয়েছে দিল্লিতে এটিএম প্রতারণার সঙ্গে যোগ রয়েছে কর্নেল কাইয়ান মিয়েরা’র৷ বর্তমানে তিহার জেলে বন্দী সে৷

এটিএম প্রতারণায় তদন্তের স্বার্থে কর্নেল কাইয়ান মিয়েরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল৷ জেরার অনুমতি চেয়ে সিট আবেদন জানাবে আদালতের কাছে৷

চলতি বছরের মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে রাজধানীর বুকে বেশ কয়েকটি এটিএম প্রতারণার ঘটনা ঘটে৷ কলকাতার এটিএম প্রতারকদের সঙ্গে দিল্লির এটিএম জালিয়াতদের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কিনা তদন্তে সেই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে৷ দিল্লির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে কয়েকজন নাইজেরিও নাগরিককে৷ তারাও এই চক্রে জড়িত বলে অনুমান পুলিশের৷ প্রতারণার পর নাজেরিওরা এখনও দেশ ছাড়েনি বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা৷ ইতিমধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে লুক আউট নোটিশ৷ তদন্তে উঠে আসছে নেপাল যোগর বিষয়টিও৷

সব মিলিয়ে এটিএমে স্কিমার ডিভাইস ও গোপন ক্যামেরা বসিয়ে প্রতারণার ঘটনার তদন্তে নেমে বিভিন্ন সূত্র খতিয়ে দেখছেন কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের অফিসারেরা৷ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক যোগের বিষয়টিও৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.