কলকাতা: অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাসের হাতে পড়লে যেন খোল-নলচে বদলে যায় দলটার। ২০১৯-২০’র এটিকে যেন প্রমাণ করছে সেই কথাই। স্প্যানিশ ঘরানা বদলে গত দু’মরশুম ধরে কেমন অচেনা টিমটাই চলতি মরশুমে বদলে গেল স্প্যানিশ কোচের জাদুকাঠির ছোঁয়ায়। কোচিং জমানার তৃতীয় মরশুমে কলকাতার ক্লাবটিকে দ্বিতীয়বারের জন্য ফাইনালে তুললেন হাবাস। মরশুমের শুরুতে ঘটা করে তাঁকে ফিরিয়ে এনে যে কোনও ভুল করেনি গোয়েঙ্কা অ্যান্ড কোম্পানি, রবিবাসরীয় যুবভারতীতে বুঝিয়ে দিলেন স্প্যানিশ কোচ।

কান্তিরাভায় সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ০-১ গোলে পিছিয়ে থাকা দলটা যে এমন দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করবে, বুঝে উঠতে পারেননি অনেকেই। প্রথম লেগের একাদশ অপরিবর্তিত রেখেই ঘরের মাঠে দ্বিতীয় লেগের স্ট্র্যাটেজি সাজিয়েছিলেন হাবাস। কিন্তু ঠিকঠাক গুছিয়ে ওঠার আগেই আশিক কুরুনিয়ানের গোলে এদিন এগিয়ে যায় বেঙ্গালুরু। ২ গোলের সমীকরণটা বদলে ফাইনালের জন্য এটিকে’র ঘাড়ে চেপে বসে পালটা ৩ গোল দেওয়ার সমীকরণ।

একাদশে এদিন জোড়া পরিবর্তন আনেন বেঙ্গালুরু কোচ কার্লোস কুয়াদ্রাত। আর জোড়া পরিবর্তনই এদিন ব্লুজ’দের এগিয়ে দেয় ম্যাচে। সুমিত রাঠিকে পরাস্ত করে পার্দোমোর সাজিয়ে দেওয়া বল ধরে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে দেন কুরুনিয়ান। বেঙ্গালুরুর জার্সি গায়ে মরশুমে এটাই তাঁর প্রথম গোল। কাজ কঠিন হলেও দমে যায়নি দু’বারের চ্যাম্পিয়ন এটিকে। বরং আরও বেশি তাগিদ নিয়ে বিপক্ষ রক্ষণে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। ডানপ্রান্ত বরাবর প্রবীর দাস ও অজি স্ট্রাইকার ডেভিড উইলিয়ামসের যুগলবন্দী বারবার বিপদের সঞ্চার করে বেঙ্গালুরু বক্সে।

২৪ মিনিটে রয় কৃষ্ণার থ্রু বল ধরে গোলের খুব কাছে পৌঁছে যান উইলিয়ামস। কিন্তু নিজেকে দক্ষতার শীর্ষে নিয়ে গিয়ে স্কোরলাইন অপরিবর্তিত রাখেন বেঙ্গালুরু দুর্গের শেষ প্রহরী গুরপ্রীত সিং সান্ধু। তবে সমতায় ফিরতে এরপর বিশেষ সময় নেয়নি কলকাতা জায়ান্টরা। ৩০ মিনিটের মাথায় ডানপ্রান্ত থেকে প্রবীর দাসের ঠিকানা লেখা পাস স্লাইডিং টাচে জালে জড়িয়ে দেন ফিজি স্ট্রাইকার রয় কৃষ্ণা। গোল পেয়ে আরও উজ্জীবিত ফুটবল খেলতে শুরু করে হাবাসের ছেলেরা। অন্যদিকে বেঙ্গালুরুর ভরসা তখন কাউন্টার-অ্যাটাক নির্ভর ফুটবল। তবে প্রথমার্ধে আর বদলায়নি স্কোরলাইন।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঝমাঠের রাশ নিজেদের পায়ে রেখে দ্বিতীয় গোল খুঁজতে থাকে দু’দলই। কিন্তু ৬৪ মিনিটে নিজেদের বক্সে উইলিয়ামসকে ফেলে দিয়ে এটিকে’র ফাইনালের রাস্তা অনেকটাই সুগম করে দেন সুরেশ ওয়াংজাম। স্পটকিক থেকে গোল করতে কোনও ভুলচুক করেননি ওয়েলিংটন ফোনিক্সের প্রাক্তনী। কিন্তু এরপরেও ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে এটিকে’র প্রয়োজন ছিল আরও একটি গোল। নইলে এগ্রিগেট ২-২ থাকলেও অ্যাওয়ে গোলের নিরিখে ফাইনালের টিকিট পেত বেঙ্গালুরুই। যাইহোক এটিকে’র কাঙ্খিত সেই গোল আসে ম্যাচের ৭৯ মিনিটে।

প্রবীর দাসের নিখুঁত ক্রস ততোধিক নিখুঁতে হেডারে বিপক্ষের জালে জড়িয়ে দেন ডেভিড উইলিয়ামস। শরীর শূন্যে ছুঁড়ে দিলেও যার নাগাল পাননি গুরপ্রীত। উলটোদিকে ৮৮ মিনিটে এরিক পারতালুর হেডার দক্ষতার সঙ্গে রুখে দিয়ে স্কোরলাইন অপরিবর্তিত রাখেন এটিকে গোলরক্ষক অরিন্দম ভট্টাচার্য। শেষ অবধি পিছিয়ে পড়েও রুদ্ধশ্বাস জয়ে (এগ্রিগেট ৩-২) তৃতীয়বারের জন্য ফাইনাল নিশ্চিত করে এটিকে। ২০১৬ পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ফাইনালে চেন্নাইয়িন এফসি’র মুখোমুখি কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজি দলটি।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।