হায়দরাবাদ: নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডকে হারিয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলে কলকাতাকে টপকে বেঙ্গালুরু এফসি শীর্ষে চলে গিয়েছিল আগেই। লিগ টেবিলে একদম তলানিতে থাকা হায়দরাবাদ এফসি’কে হারিয়ে ফের শীর্ষস্থান ধরে রাখার হাতছানি ছিল এটিকে’র সামনে। কিন্তু শনিবাসরীয় অ্যাওয়ে ম্যাচে হায়দরাবাদ এফসি’র বিরুদ্ধে ড্র করে সেই সুযোগ হাতছাড়া করল অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাসের দিল। বলা ভালো শেষ মুহূর্তের গোলে এদিন হার বাঁচাল এটিকে। ফিল ব্রাউনের দলের কাছে এদিন ২-২ গোলে আটকে গেল কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজি দলটি।

মাইকেল সুসাইরাজ ও প্রবীর দাসের পরিবর্তে জবি জাস্টিন ও সুমিত রাঠিকে একাদশে রেখে এদিন হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে দল সাজিয়েছিলেন এটিকে’র স্প্যানিশ কোচ। অন্যদিকে নেস্তর গর্দিলো, মার্সেলিনহো এবং বোবোকে আপফ্রন্টে রেখে অভিষেক আইএসএলে দ্বিতীয় জয়ের লক্ষ্যে ছিল হায়দরাবাদ। ঘরের মাঠে সাত মিনিটে গোলের খুব কাছে পৌঁছে যায় হায়দরাবাদ। কিন্তু নেস্তরের শট এক্ষেত্রে পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।

পালটা আক্রমণে গোলের মুখ খুলে ফেলে আইএসএলে দু’বারের চ্যাম্পিয়ন এটিকে। জেভিয়ার হার্নান্ডেজের বাঁ-প্রান্তিক ক্রস এক্ষেত্রে বক্সের মধ্যে হাতে লাগান হায়দরাবাদ ডিফেন্ডার আশিষ রাই। পেনাল্টি দিতে ভুল করেননি রেফারি। স্পটকিক থেকে খেলার গতির কিছুটা বিরুদ্ধেই এটিকে’কে এগিয়ে দেন ফিজি স্ট্রাইকার রয় কৃষ্ণা। এরপর একধিকবার গোলের কাছাকাছি গিয়েও তিনকাঠিতে বল রাখতে ব্যর্থ হচ্ছিল হায়দরাবাদ।

মার্সেলিনহোর কর্নার থেকে ভেসে আসা বলের ফ্লাইট্ মিস করে বিপদ ডেকে আনেন এটিকে গোলরক্ষক অরিন্দম। সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ থাকলেও হায়দরাবাদের হয়ে ফাঁকা গোলে হেড করার মত ছিলেন না কেউই। এরপর মার্সেলিনহোর শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অবশেষে বিরতির মিনিটছ’য়েক আগে সমতায় ফেরে হায়দরাবাদ।

বাঁ-দিক থেকে ভেসে আসা নেস্তরের ক্রস এযাত্রায় হেডে তিনকাঠিতে রাখেন বোবো। হার্নান্ডেজের ফ্রি-কিক থেকে জবির হেড তিনকাঠিতে থাকলে কিংবা ডেভিড উইলিয়ামসের প্রচেষ্টা আদিল খান ব্যর্থ না করলে বিরতির আগেই ফের এগিয়ে যেতে পারত এটিকে। কিন্তু তা না হওয়ায় ১-১ অবস্থায় বিরতিতে যায় দু’দল।

জোড়া পরিবর্তন এনে দ্বিতীয়ার্ধে দ্বিতীয় গোলের জন্য ঝাঁপায় দু’দল। সুসাইরাজ ও প্রবীরকে নামিয়ে মোক্ষম চালটা দিয়েই দেন এটিকে কোচ হাবাস। অন্যদিকে ঘরের মাঠে পুরো পয়েন্টের লক্ষ্যে ইয়াসির শাহ ও রবিন সিং’কে নামিয়ে দেন ফিল ব্রাউন। প্ল্যান-‘বি’তে গিয়ে ৮৫ মিনিটে প্রথম সফল হন হোম টিমের কোচই। মার্সেলিনহোর ক্রস থেকে বোবোর হেড অরিন্দমকে পরাস্ত করে জালে জড়াতে জয়ের গন্ধ পেয়ে যায় হায়দরাবাদ। কিন্তু গোলরক্ষকের ভুলে দ্বিতীয় জয় এদিন মাঠেই রেখে আসতে হয় হায়দরাবাদকে।

কমলজিতের ক্লিয়ারেন্স এযাত্রায় সোজা জেভিয়ারের আস্তানায় গিয়ে পড়লে তা থেকে হেড করে কৃষ্ণার জন্য গোলের বল সাজিয়ে স্প্যানিয়ার্ড। একা গোলরক্ষককে পেয়ে মাথার উপর দিয়ে লবে বল জালে রাখতে কোনও ভুল করেননি কৃষ্ণা। ৯০ মিনিটে ফিজিয়ানের দ্বিতীয় গোলেই এক পয়েন্ট নিশ্চিত হয় এটিকে’র। এই ড্র’য়ের ফলে ৯ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত দ্বিতীয়স্থানে এটিকে। সমসংখ্যক ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বিএফসি। আর ৯ ম্যাচে মাত্র ৫ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে একদম শেষ হায়দরাবাদ।