কলকাতা২৪x৭: স্প্যানিশ ঘরানা বদলে ইংলিশ ঘরানায় প্রবেশ করে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছিল গত দু’মরশুমে। হৃত সম্মান পুনরুদ্ধারের জন্য চলতি মরশুমে ফের স্প্যানিশ তিকিতাকার দ্বারস্থ দু’বারের আইএসএল চ্যাম্পিয়ন এটিকে। ২০১৭-১৮ টেডি শেরিংহ্যাম, ২০১৮-১৯ স্টিভ কপেলের প্রশিক্ষণে ব্যর্থ হওয়ার পর এটিকে ফের আস্থা রেখেছে তাঁদের দু’বারের খেতাবজয়ী স্প্যানিশ কোচ অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাসের উপর।

শুধু তাই নয়, গত মরশুমে ১৮ ম্যাচে মাত্র ১৮ গোল করে ষষ্ঠস্থানে শেষ করা কলকাতা কেন্দ্রিক ফ্র্যাঞ্চাইজি দলটি এবার বাড়তি নজর দিয়েছে তাদের আক্রমণেভাগের দিকেও। অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়র ডিভিশন ফুটবল লিগে গত মরশুমে সর্বোচ্চ গোলস্কোরার ফিজির রয় কৃষ্ণাকে উড়িয়ে এনেছে তারা। সঙ্গে রয়েছেন ওয়েলিংটন ফোনিক্সে গত মরশুমে কৃষ্ণারই সতীর্থ ডেভিড উইলিয়ামস। ২০১৮-১৯ মরশুমে এই অস্ট্রেলিয়ান ফরোয়ার্ডের সঙ্গে জুটি বেঁধে ২৯ গোল করেছিলেন কৃষ্ণা। এখানেই শেষ নয়। আক্রমণভাগে কৃষ্ণা-উইলিয়ামস জুটিকে ভরসা দিতে রয়েছেন জবি জাস্টিন। গত মরশুমে আইলিগে ইস্টবেঙ্গলের জার্সি গায়ে সর্বোচ্চ ৯ গোল করা এই কেরল স্ট্রাইকার এটিকে’র আক্রমণে এবার তুরুপের তাস। ভারতীয় স্ট্রাইকার হিসেবে হাবাসের হাতে বিকল্প অবশ্যই বলবন্ত সিং।

স্বদেশী-বিদেশী মেলবন্ধনে এটিকে’র মাঝমাঠের দায়িত্ব থাকছে তিন বিদেশি স্পেনের এডু গার্সিয়া, জাভি হার্নান্ডেজ ও আইরিশ কার্ল ম্যাকহিউয়ের উপর। সঙ্গে রয়েছেন প্রণয় হালদার, কোমল থাতালরা। বিপক্ষের পা থেকে বল স্ন্যাচিংয়ের সহজাত দক্ষতার কথা মাথায় রেখে মুম্বই সিটি এফসি থেকে নিয়ে আসা হয়েছে শেহনাজ সিংকে। পাশাপাশি গত মরশুমে জামশেদপুর সিটি এফসি’র হয়ে গত মরশুমে দুরন্ত খেলা মাইকেল সুসাইরাজেরও সার্ভিস পাবে কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজি দলটি। রয়েছে জয়েশ রানেও। মাঝমাঠে এই সকল ফুটবলারদের উপর নির্ভর করেই আগ্রাসী ফুটবলের ডাক দিচ্ছেন হাবাস। পাশাপাশি ফরোয়ার্ডরা যাতে মাঝমাঠ থেকে ঠিকমতো বলের সাপ্লাই পান, সেদিকেও নজর স্প্যানিশ কোচের।

আধুনিক ফুটবলে বর্তমানে আক্রমণাত্মক ফুটবলের শুরুটা হয় দলের রক্ষণ থেকেই। সেই রক্ষণে এটিকে ভরসা রেখেছে গত মরশুমে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া ইংরেজ ডিফেন্ডার জন জনসনের উপর। চলতি মরশুমে তাঁর সঙ্গী হতে পারেন স্প্যানিশ অগাস্টিন গার্সিয়া কিংবা কেরালা ব্লাস্টার্স থেকে আসা ভারতীয় দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার আনাস এডাথোডিকা। ফিরেছেন ঘরের ছেলে প্রীতম কোটাল। যার অভিজ্ঞতা সম্পদ হয়ে উঠতে পারে এটিকে’র।

তিনকাঠির নীচেও এটিকে দলে সুস্থ প্রতিযোগীতা। অরিন্দম ভট্টাচার্যকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে কেরালা ব্লাস্টার্স থেকে এটিকে’তে যোগদান করেছেন অনুর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে অনবদ্য পারফর্ম করা ধীরজ সিং। তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে রয়েছেন লারা শর্মা। শক্তিশালী আক্রমণভাগ, তারকাখোচিত মাঝমাঠ যেমন এটিকে’র শক্তি ঠিক তেমনই দলে অধিকাংশই নতুন ফুটবলার আসায় কেমিস্ট্রি এখনও সেভাবে গড়ে ওঠেনি। যদিও প্রায় ৪৫ দিনের প্রস্তুতির পর প্রথম তিন মরশুমের মতোই দলকে সাফল্য দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হাবাস।

রবিবার কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু এটিকে’র।

এটিকে স্কোয়াড একনজরে:
গোলরক্ষক: অরিন্দম ভট্টাচার্য, ধীরজ সিং, লারা শর্মা।
ডিফেন্ডার: আনাস এডাথোডিকা, অগাস্টিন গার্সিয়া, জন জনসন,প্রীতম কোটাল, প্রবীর দাস, সালাম রঞ্জন সিং, অনিল চওয়ান, অঙ্কিত মুখোপাধ্যায়
মিডফিল্ডার: কার্ল ম্যাকহিউ, এডু গার্সিয়া, জাভি হার্নান্ডেজ, কোমল থাতাল, মাইকেল সুসাইরাজ, শেহনাজ সিং, প্রণয় হালদার, জয়েশ রানে
ফরোয়ার্ড: রয় কৃষ্ণা, জবি জাস্টিন, ডেভিড উইলিয়ামস, বলবন্ত সিং