স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কর আদায়ে রেকর্ড গড়ল কলকাতা পুরসভা। আগস্ট মাসের প্রথম দশ দিনেই দিনেই সম্পত্তি কর বাবদ প্রায় একশো কোটি টাকা জমা পড়ল কলকাতা পুরসভার কোষাগারে।

একদিকে করোনার জন্য খরচ, পাশাপাশি কর্মীদের বেতন, সব কিছুর জন্যই ভরসা পুরকর। কিন্তু লকডাউনের ধাক্কায় স্তব্ধ জনজীবনের ধাক্কায় জুন মাসে পুরসভার কোষাগার কার্যত শূন্যে পৌঁছে যায়। পুরকর্মীদের বেতন দেওয়ার জন্য নবান্নের সাহায্য নিয়েছিলেন স্বয়ং পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। রাজ্য সরকারের থেকে ৩০০ কোটি টাকা অর্থ সাহায্য চেয়েছিল পুরসভা। সেই টাকায় বেতন দেওয়া হয়েছে পুরকর্মীদের।

আনলক শুরু হতেই বকেয়া পুরকর আদায়ে উদ্যোগ নেন বিভাগীয় দায়িত্ব প্রাপ্ত বিদায়ী ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ । বিভাগীয় বৈঠক করে শহরজুড়ে সম্পত্তি কর আদায় আরও বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেন অতীন ঘোষ। মাস খানেক আগে পুরকর আদায়ের জন্য ২০টি কাউন্টারও খোলা হয়। বকেয়া সম্পত্তি কর জমা দিতে নাগরিকদের নানা সুবিধা দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেন অতীন। তার ফল মিলল।

পুরসভার রেকর্ড কর আদায়ে খুশি পুরসভার মুখ্যপ্রশাসক তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “করোনা ও আমফান, দুই দুর্যোগে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও পুরসভা বাড়ি বাড়ি যে বিপুল পুর পরিষেবা দিচ্ছে তাতেই খুশি হয়ে নাগরিকরা আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে সম্পত্তি কর জমা দিচ্ছেন।

পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার সম্পত্তি কর বকেয়া ছিল। এদিকে, বর্তমানে শহরে ৮ লক্ষ ৪০ হাজারের কাছাকাছি সম্পত্তি করদাতা রয়েছেন। জানা গিয়েছে, একটি বৈঠকে পুর কমিশনারও আধিকারিকদের সম্পত্তি কর আদায়ের ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, লকডাউনের জেরে ২২ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত বন্ধ ছিল পুরসভার সম্পত্তি কর বা অন্যান্য কর সংগ্রহের বিভাগ। অনলাইনে মাত্র ৩০ কোটি টাকা জমা পড়ছিল। কিন্তু ১ জুন থেকে আনলকে পুরকর আদায় শুরু হতেই ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২৬০ কোটি জমা পড়ে পুরসভার কোষাগারে। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে গেল অগাস্টের কর আদায়।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।