স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: স্বামী নিয়মিত লটারির টিকিট কাটত। যেটা কিনা একদমই পছন্দ ছিল না স্ত্রীর। আর তারই প্রতিবাদ করায় বেধড়ক মারধোরের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে। অভিমানে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা স্ত্রীয়ের। এদিকে পুলিশের ভয়ে ঘটনার কিছুক্ষন পরেই বাড়ির পিছনের মাঠে গিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে অভিযুক্ত স্বামীও। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে, গোবরডাঙ্গা থানার অন্তর্গত নাইগাছি এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে ওই গৃহবধূর নাম নিহা রানী মণ্ডল(৪০)। স্বামী সুকুমার মণ্ডল(৪৮)। বর্তমানে ওই গৃহবধূ আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরজিকর মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নাইগাছির বাসিন্দা সুকুমার মণ্ডলের লটারি কাটার নেশা রয়েছে। যা নিয়ে প্রায় দিনই তাঁদের পরিবারে অশান্তি লেগে থাকত। অশান্তি সত্ত্বেও নিয়মিত লটারি কাটা বন্ধ করেনি অভিযুক্ত সুকুমার। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সুকুমার এবং রানী মণ্ডলের তিন ছেলে মেয়ে রয়েছে। মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বড় ছেলে ভিনরাজ্যে কাজ করে। এবং তাদের ছোটো ছেলেও দিনমজুরের কাজ করে। জানা গিয়েছে, সুকুমার মণ্ডল নিজেও পেশায় একজন দিনমজুর।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার সন্ধ্যায়। ওই দিন সন্ধ্যাবেলায় ফের লটারি কাটা নিয়ে সুকুমার মন্ডলের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী নিহা রানীর লটারি বিবাদ বাধে‌। কিন্তু হঠাৎ তাদের ঝগড়া চরম পর্যায়ে পৌঁছলে আচমকাই সুকুমার বেধরক মারধোর করতে শুরু করে নিহা রানীকে। এদিকে এই ঘটনায় স্বামীর উপর অভিমান করে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ওই গৃহবধূ। যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি দেখে ফেলায় তড়িঘড়ি করে তাকে হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে আসে। আর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তখনই পুলিশের ভয়ে বাড়ির পিছনের মাঠে গিয় বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সুকুমার। প্রতিবেশীরা তাকেও দেখে ফেললে চিকিৎসার জন্য সুকুমারকে নিয়ে আসা হয় হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে।

জানা গিয়েছে, বেশ কিছু সময় হাবড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় স্বামীকে বারাসাত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় কিন্তু পরবর্তীতে স্ত্রীর অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই বারাসাত থেকে আরজিকর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় ওই গৃহবধূকে। বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছে ওই গৃহবধূ।