স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: ৫০ লক্ষ টাকার সোনা ছিনতাইয়ের অভিযোগে মঙ্গলবার গ্রেফতার পুলিশের এক এএসআই। এই ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুরাতন মালদহ থানার পুলিশ। যার মধ্যে একজন সিভিক ভলেন্টিয়ার রয়েছে। মঙ্গলবার ধৃতদের মালদহ আদালতে পেশ করলে ছয় দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত এএসআই-এর নাম রাজীব পাল। তিনি বর্তমানে ইংরেজবাজার থানায় কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি ধৃত আরেক সিভিক ভলেন্টিয়ারের নাম ইলিয়াস শেখ। সে ইংরেজবাজারের মিল্কি পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত। এছাড়াও এই ঘটনায় ধৃত আরও দু’জনের নাম স্বাগত মন্ডল এবং সেনাউল হক। স্বাগত মন্ডল কলকাতার বরাহনগরের বাসিন্দা। তিনিই এই সোনা নিয়ে মালদহ হয়ে কলকাতা যাচ্ছিলেন। অপরদিকে সেনাউলের বাড়ি ইংরেজবাজার থানার কোঠাবাড়ী এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনা ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালের ৩০ মে। কিন্তু ছয় মাস পর ২০১৯ সালের ২১নভেম্বর পুরাতন মালদহ থানায় সোনা ছিনতাইয়ের অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। অভিযোগ করেছিলেন বরাহনগরের বাসিন্দা স্বাগত মন্ডল। ছিনতাইয়ের সময় স্বাগত মন্ডলের মোবাইলটা কেড়ে নিয়েছিল অভিযুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ার ইলিয়াস শেখ। চুরি করা মোবাইলটি সে বিক্রি করে দেয় সেনাউল হক’কে। এরপরই বিভিন্ন সূত্র ধরে ছিনতাই হওয়া ওই মোবাইল উদ্ধার করে পুরাতন মালদহ থানার পুলিশ। তারপরই এই ঘটনার পিছনে এএসআই রাজীব পালের যুক্ত থাকার বিষয়টি বুঝতে পেরে যায় পুরাতন মালদহ থানার পুলিশ।

ধৃতদের বিরুদ্ধে ৩৯২ এবং ১২০ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুরাতন মালদহ থানার পুলিশ। কারণ, এই সোনা ছিনতাইয়ের ঘটনার পিছনে অন্য গন্ধ পাচ্ছে তদন্তকারী পুলিশ অফিসারেরা। যে কারণে অভিযোগকারী বরাহনগরের বাসিন্দা স্বাগত মন্ডলকে কলকাতা থেকে সোমবার গ্রেফতার করে নিয়ে আসে মালদহ পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছিনতাই হয়ে যাওয়া প্রায় দেড়কিলো ওজনের সোনার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। গত ৩০ মে দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে এই সোনা নিয়ে সড়ক পথেই একটি গাড়ি করে কলকাতায় যাচ্ছিলেন স্বাগত মন্ডল। তিনি কলকাতায় সোনার কারবারের সঙ্গে যুক্ত। ওইদিন রাতে পুরাতন মালদহ থানার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ঝাঝড়া মোড়ে গাড়ি থামিয়ে সোনা ছিনতাই করা হয়। ঘটনার সময় স্বাগত মন্ডলের মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। সেই ঘটনার মৌখিকভাবে ওইদিনই পুরাতন মালদহ থানায় অভিযোগ জানিয়ে গিয়েছিলেন কলকাতার বাসিন্দা স্বাগত মন্ডল। কিন্তু লিখিত অভিযোগ করেন ২১ নভেম্বর।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ ছয় মাস পর ছিনতাইয়ের অভিযোগ কেন, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উস্কে দিয়েছে। আর পুরো বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় তদন্ত। প্রাথমিক তদন্তে ছিনতাই হওয়া মোবাইল উদ্ধারের পরই পুরো ঘটনাটি উঠে আসে পুলিশের সামনে। মোবাইল সূত্র ধরেই নানা তথ্য পুলিশ হাতে পেয়ে যায়। এরপরই তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা জানতে পারেন যে, এই ছিনতাইয়ের ঘটনাটি রীতিমতো পরিকল্পনামাফিক ঘটনা হয়েছিল। যার কারণেই, কলকাতার ব্যবসায়ীকে প্রথমে গ্রেফতার করে মালদহ পুলিশ‌। পুলিশি জেরায় ধৃত ওই ব্যবসায়ী ভেঙে পড়েন। সে জানায় ওই সোনা অন্য একজনের জন্য দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে সংগ্রহ করে কলকাতায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপরই পুলিশি জেরায় আরও সমস্ত ঘটনার কথা স্বীকার করে নেয় ধৃত ব্যবসায়ী স্বাগত মন্ডল।

এই বিষয়ে পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, সোনা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল ৩০ মে। ঘটনার ছয় মাস পর গত ২১ নভেম্বর অভিযোগ দায়ের হয় পুরাতন মালদহ থানায়। এখানেই সন্দেহ তৈরি হয়। এরপরই বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুরাতন মালদহ থানার পুলিশ‌। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে চারজনকে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করছে পুরাতন মালদহ থানার পুলিশ।