স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: বিদ্যুৎ লাইনের তার পাতা নিয়ে বিপত্তি ঘটল উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার মধ্যমগ্রামে। রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের ভূগর্ভস্থ টানেল দিয়ে হাইটেন্সান বিদ্যুৎ বাহি তার মাটিতে বোরিং করার সময় ধস নামায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। ধস নামার ফলে মাটি ফুড়ে লোহার একটি রড বাড়ির দেওয়াল ভেঙে ঢুকে যায় বাড়ির ড্রয়িং রুমের ভিতরে। রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের ভূগর্ভস্থ টানেল দিয়ে হাইটেন্সান বিদ্যুৎ বাহি তার মাটিতে বোরিং করার সময় ধস নামায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় বুধবার দুপুরে মধ্যমগ্রামের চৌমাথা এলাকায়।

ক্ষতিগ্রস্থ ওই বাড়ির মালিক জানিয়েছেন, তাঁদের বাড়ির দেওয়ালে ফাটল ধরেছে, ঘরের মেঝে বসে গেছে। শুধু তাই নয় এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জানা গিয়েছে এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে মঙ্গলবার মাঝ রাতে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন তারা। মঙ্গলবার গভীর রাতে বিদ্যুৎ পর্ষদের কাজ চলাকালীন হঠাৎই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে মধ্যমগ্রাম চৌমাথা র ওই এলাকা।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির গৃহবধূ ডলি চক্রবর্তী এদিন জানান, ঘটনার সময় তারা সবাই ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎই বিকট শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। এরপর তারা শোবার ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে দেখেন যে তাদের বাড়ির বসবার ঘরের দেওয়াল ভেঙে ঢুকে গেছে বিদ্যুতের মোটা একটি রড। এই ঘটনা দেখার পর আর ওই বিকট শব্দ শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই বাড়ির এক বয়স্ক বাসিন্দা।

গোটা ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা সহ চক্রবর্তী বাড়ির সকলেই। এই বিষয়ে ওই পরিবারের এক সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, “আমরা সেই সময় নিজেদের শোবার ঘরে ঘুমাচ্ছিলাম। তাই প্রাণে বেঁচে গেছি আমরা। কারন, মোটা বিদ্যুতের রডটি আমাদের বসবার ঘরের মধ্যে ঢুকে গেছিল। তবে এই ঘটনায় আমরা খুবই আতঙ্কিত তাছাড়া এই ঘটনার ফলে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।”

খবর পেয়ে বুধবার সকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ এবং মধ্যমগ্রামের বিধায়ক তথা মধ্যমগ্রাম পুরসভার পুরপ্রধান রথীন ঘোষ। তিনি ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ী পরিদর্শন করেন ও বিদ্যুৎ পর্ষদের কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গেও এই বিষয়ে কথা বলেন। যাতে ক্ষতিগ্রস্থরা প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিপুরন পায়। এদিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ না করার ফলেই এই বিপত্তি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান বিভাগীয় আধিকারিকদের । রথীন বাবু জানান, এই ধরনের কাজে কর্মীদের অনেক বেশি সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।