স্টাফ রিপোর্টার, কাঁথি ও জলপাইগুড়ি: ‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দোয়ারে পড়ল কাঁটা, যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা’। প্রতি বছরের ন‍্যায় এই বছরও পাঁউশী অন্ত‍্যোদয় অনাথ আশ্রম প্রতিটি আবাসিকদের মধ‍্যে ভাইবোনের সম্পর্ক মজবুত রাখতে আশ্রমের তরফে আয়োজন করা হল সম্প্রীতির উৎসব ভাইফোঁটার। আর এই ভাইফোঁটা উপলক্ষে উৎসবে সামিল হল ওই আশ্রমের সকল অনাথ ছেলে-মেয়েরা।

জানা গিয়েছে, সবাই সারিবদ্ধভাবে বসে রীতিমত নতুন জামাকাপড় পরে প্রদীপ জ্বালিয়ে ধান, দূর্বা ও চন্দনের ফোঁটা দিয়ে সোহম, দীপঙ্কর, শুভদ্বীপ, রাজুদেরকে ফোঁটা দিয়ে বরণ করে নিল দেবনীতা, সঙ্গীতা, বর্ষা, অপর্নরা। সঙ্গে মিষ্টি মুখও করা হয়। মঙ্গলবারের এই অনুষ্ঠানে সামিল হয় ওই অনাথ আশ্রমের প্রায় দেড়শো ভাইবোন।

শুধু আবাসিক নয়। এছাড়াও, মঙ্গলবারের এই অনুষ্ঠানে সামিল হয় অনেক গ্ৰামবাসী যাদের কোনো ভাই বা বোন নেই। আশ্রমের আবাসিকরা তাদের ও ভাইবোনের সম্পর্কে আবদ্ধ করে এদিন। শুধু তাই নয়, আশ্রম কর্তৃপক্ষ এবং অনাথ ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের এই প্রয়াস দেখার জন‍্য এদিন অনেক শুভানুধ্যায়ী উপস্থিত হয় আশ্রম প্রাঙ্গণে। তাদের সবাইকে একইভাবে ভাইফোঁটা দিয়ে তাদের মঙ্গল কামনা করা হয়। অনাথ আশ্রমের এই উদ্যোগ দেখে আবাসিকদের পাশাপাশি খুশি হয়েছেন এখানে আগত সকল শুভানুধ্যায়ীরা। তাঁদের এই আনন্দ উৎসব পরখ করতে পেরে আপ্লুত আশ্রম কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবারের ভাইফোঁটা নিয়ে আশ্রমের কর্ণধার বলরাম করণ মহাশয় বলেন, এই ধরনের অনুষ্ঠান তাঁরা প্রতি বছরই করে থাকেন। যাতে আবাসিক ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের মধ‍্যে ভাইবোনের প্রীতির সম্পর্ক বজায় থাকে চিরকাল। তিনি আরও বলেন, তাছাড়া আবাসিকরা গ্ৰামবাসীর কাছে ভাইবোনের সম্পর্ক সুরক্ষা পায় তার একটি বার্তা প্রেরণ করা হয় এই ভাইফোঁটার মাধ্যমে। আগামী দিনে এই অনুষ্ঠান যাতে আরও বড়ো ভাবে করা যায় তার চেষ্টাই করবেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, ভাইফোঁটা উপলক্ষ্যে এদিন দুপুরে সকলের জন্য এক জম্পেশ ভুরিভোজের আয়োজন করা হয় আশ্রমের তরফে।

বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি ভাইফোঁটার আনন্দে সামিল হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলাও। ভাইদের মঙ্গল কামনা করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই জলপাইগুড়ি বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়ে গেছে ভাইফোঁটা উৎসব। দিদি ও বোনদের কাছ থেকে ফোঁটা নিতে দেখা গেল ভাই ও দাদাদের। সর্বত্র‌ই নিয়ম মেনেই চলছে এই ভাই ফোঁটা উৎসব। কেউ কেউ আবার এই দিনে ভাই ছাতু উৎসব পালন করেন। সঙ্গে থাকে মিষ্টি মুখ ও উপহার বিনিময়ের পালা। ভাইদের মঙ্গল কামনায় বাঙালির এই উৎসব ঘরে ঘরে‌ই পালিত হচ্ছে। শুধু তাই নয় ভাইফোঁটা উপলক্ষে এদিন কলকাতা শহরের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন মিষ্টির দোকানগুলোতেও পছন্দের মিষ্টি কিনতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতন।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ