স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: কালী পুজোর রাতে ডিজে বাজানো নিয়ে বচসার জেরে এশিয়াড জয়ী স্বপ্না বর্মন এর দাদা অসিত বর্মনের বিরুদ্ধে এক বয়স্ক ব্যাক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠল। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি জেলার পাতকাটা ঘোষপাড়া এলাকায়। এদিকে পাড়ারই বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধোরের ঘটনায় রীতিমত উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে এলাকা জুড়ে।

জানা গিয়েছে, অসিত বর্মনের হাতে আক্রান্ত ওই ব্যাক্তির নাম নিতাই বর্মন (৫০)। বাড়ি একই এলাকাতে। আক্রান্ত ওই ব্যক্তি বর্তমানে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে স্বপ্না বর্মনের বাড়ির পাশে কালি পুজোর মণ্ডপে ডিজে বাজানো হচ্ছিলো। তখনই গণ্ডগোলের সূত্রপাত হয়। পুজয় মণ্ডপের ভিতরেই দুই যুবকের মধ্যে গন্ডোগোল বাঁধে।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রতিমা বর্মন জানান, এরপর সেখানে আসে স্বপ্নার দাদা অসিত বর্মন। এসেই সেখানে থাকা ডি জে মেশিন ও চেয়ার ভাঙচুর শুরু করে। বাধা দিতে গেলে তার শ্বশুর নিতাই বর্মনের বুকে লাথি মারে অসিত। পরে গিয়ে মাথায় আঘাত পান তিনি। এরপর এলাকাবাসীরা স্বপ্নার বাড়িতে গিয়ে প্রতিবাদ জানায়।
খবর পেয়ে এলাকায় দলবল নিয়ে আসেন জলপাইগুড়ির বারোপেটিয়া অঞ্চলের তৃনমূলের উপপ্রধান কৃষ্ণ দাস। তার নেতৃত্বে এলাকায় বসে সালিশি সভা। জানা গিয়েছে, শুধু তাই নয়, সেই সালিশি সভার খবর করতে গেলে সাংবাদিকদের মোবাইল কেড়ে তাদের ধমক দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠে। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কোতায়ালি থানার পুলিশ।

এদিকে এই ঘটনায় গ্রামবাসীদের দাবী স্বপ্নার পরিবারের নিরাপত্তা দিতে কয়েকজন পুলিশ কর্মী রয়েছে। কথায় কথায় তাদের পরিবার পুলিশের ভয় দেখায়। জানা গিয়েছে, স্বপ্নার পরিবারের এমন আচরণে বীতশ্রদ্ধ গ্রামবাসীরা।
আক্রান্ত নিতাই বর্মনের ছেলে ভবেশ বর্মন অভিযোগ করে বলেন, ‘এখন এদের টাকার গরম হয়ে গেছে’। ওরা কথায় কথায় এলাকায় ভাঙচুর চালায়। ‘কিছু বলতে গেলে বলে আমি ড্যামারেজ দিয়ে দেবো তোদের কি’। ‘বেশি কথা বললে তাদের ব্যাক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী দেখিয়ে হুমকি দেয়’।

প্রসঙ্গত স্বপ্না এশিয়াডে সোনার মেডেল জেতার কয়েকদিন পর তার মা বাসনা বর্মন বাজারে গেলে তার গলায় থাকা সোনার হার চিন্তাই হয়। এরপর থেকে তার বাড়িতে পুলিশ দিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া শুরু হয়। যা আজও চলছে বলে জানা গিয়েছে।