স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: দেখা মাত্রই গুলি করে মারতে হবে চিতাবাঘকে। জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ির হেলাপাকড়িতে এই দাবি তুলে বনকর্মীদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন উত্তেজিত জনতা। এমন ঘটনার জেরে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চল যায়। বিক্ষোভকারীদের হটাতে এলাকায় নামানো হয় ময়নাগুড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র‍্যাফ।

শুক্রবার সকালে এমন ঘটনায় দিনভোর উত্তেজনা ছড়াল জলপাইগুড়ি জেলার হেলাপাকড়িতে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ময়নাগুড়ির হেলাপাকড়ি এলাকায় আচমকা একটি চিতাবাঘ ঢুকে পড়ে। চিতা বাঘের খবরে আতঙ্ক ছড়ায় ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। এই ঘটনায় জখম হয় স্থানীয় ৩ জন। এদিকে গ্রামে চিতা বাঘ ঢুকেছে খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয় বনদফতরের কর্তারা। এরপর তাঁদের তরফে গোটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। কিন্তু রাত পর্যন্ত দুবার চিতাবাঘের দেখা মিললেও লক্ষভ্রষ্ট হয় ঘুম পাড়ানি গুলি। এরপর বাঘ ধরতে রাতে খাঁচা পাতা হয়। সেইসঙ্গে গোটা এলাকায় টহল দেয় বনকর্মী এবং পরিবেশকর্মীরা।

কিন্তু, বনদফতরের কর্মীরা চিতাবাঘ খাঁচায় বন্দী করতে ব্যর্থ হয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কের জেরে নতুন করে ক্ষোভ ছড়ায় ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। এদিন সকালে এলাকায় গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন বনদফতরের কর্মীরা। পরে পুলিশ এসে উদ্ধার করে নিয়ে যায় তাঁদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে বনদফতরের সঙ্গে বৈঠকে বসে এলাকাবাসী।

এই বিষয়ে বনদফতরের কর্মচারী সংগঠন এর পক্ষ থেকে দাবি করে বলা হয়েছে, ব্যাপক ভাবে বোমা ফাটিয়ে, তল্লাশি চালিয়েও ওই এলাকায় কোনও চিতাবাঘের দেখা মেলেনি। চিতাবাঘটি অন্য এলাকায় চলে গেছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

এই ঘটনায় জলপাইগুড়ি জেলার আহ্বায়ক বিজয় ধর অভিযোগ করে জানান, হেলাপাকড়িতে চিতাবাঘ আর নেই তাই খুট্টিমারি এলাকায় খাচাপাতার জন্য হেলাপাকড়ি থেকে খাচা নিয়ে যেতে হবে পাশের এলাকায়। কিন্তু সেই কাজে বাধা দিচ্ছে এলাকার একাংশ বাসিন্দা। এছাড়াও দফতরের স্কোয়াড গুলিতে লোক সহ অন্যান্য সামগ্রীর খামতি রয়েছে। এই বিষয়ে দফতরের দ্রুত দেখা উচিত বলে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।