স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: কলেজে ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে ছাত্রী বিক্ষোভের জেরে উত্তাল হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দক্ষিণেশ্বরের হীরালাল গার্লস কলেজে। হীরালাল মহিলা কলেজের ছাত্রীদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই কলেজ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ইস্যুতেই ফি অতিরিক্ত মাত্রায় বৃদ্ধি করে চলেছে। এমনকি মোটা টাকা দিয়ে ছাত্রীরা ভরতি হওয়ার পরও তিন মাস অন্তর অন্তর কলেজ কোনও না কোনওভাবে ছাত্রীদের থেকে টাকা নিয়ে চলেছে৷ এমনকি এই টাকা নিয়ে উপযুক্ত বিল ও ছাত্রীদেরকে দেওয়া হচ্ছে না।

সেই সঙ্গে কলেজে নিয়মিত ক্লাস না করিয়ে ছাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ ছাত্রীদের। এইসব বিষয়গুলি নিয়ে ছাত্রীরা মঙ্গলবার দুপুরে কলেজের প্রিন্সিপালের সঙ্গে দেখা করতে যায়। প্রিন্সিপাল দেখা করার জন্য বিভিন্ন রকম শর্ত দেয় এরপর ছাত্রীরা একত্রিত হয়ে প্রিন্সিপালের সঙ্গে দেখা করতে গেলে কলেজের পুরুষ কর্মীরা তাদের বাধা দেয় তখন ছাত্রীদের সঙ্গে কলেজের কর্মীদের হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। ছাত্রীরা কলেজে ব্যাপক ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। কলেজের ছাত্রীদের সঙ্গে কলেজের পুরুষ কর্মীরা অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা না করতে দেওয়ার অছিলায় ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন ব্যবহার করে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রীরা। এদিন এর প্রতিবাদে ছাত্রীরা নিরাপত্তার অভাবে কলেজের গেটে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হীরালাল গার্লস কলেজে ছুটে আসে বেলঘরিয়া থানার পুলিশ।

কলেজের প্রিন্সিপাল ডঃ সোমা ঘোষ জানান, “ফিস বৃদ্ধির বিষয়টি কোনও ইস্যু নয়। আসল কথা সোমবার বিশ্ব বিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় যারা বসতে পারবেন তার একটি তালিকা কলেজের তরফ থেকে প্রকাশ করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের পরীক্ষায় যেসব ছাত্রীরা বসতে পারবে না। যাদের পরীক্ষার ফল অত্যন্ত খারাপ হয়েছে তারাই বিক্ষোভ দেখাচ্ছে, ভাঙচুর করেছে।”

কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ছাত্রীরা প্রিন্সিপালকে মারবে বলে তৈরি হয় সেই সময় কলেজের কিছু মহিলা ও পুরুষ কর্মী বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করে ছাত্রীরা। ছাত্রীরা ভাঙচুর চালায় কলেজের নোটিশ বোর্ডে এবং প্রিন্সিপালের ঘরের দরজার কাঁচও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। এই বিক্ষোভের মুখে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন হীরালাল গার্লস কলেজের বেশ কয়েকজন কর্মচারীও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলেজ চত্বরে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে ।