স্টাফ রিপোর্টার, হলদিয়া: রাজ্যের তিন কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার একদিন কাটতে না কাটতেই বিজেপির পার্টি অফিস পোড়ানোর ঘটনায় শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে, হলদিয়ায় বিজেপির একটি পার্টি অফিসে। এই ঘটনায় অবশ্য বিজেপি নেতৃত্বরা রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের দিকেই অভিযোগের তির ছুঁড়ছেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে, বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলকেই দায়ী করছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।

রাজ্য বিধানসভা উপনির্বাচনের তিন কেন্দ্রে বিজেপির শোচনীয় হার। লোকসভা নির্বাচনের ছয় মাসের মধ্যেই গেরুয়া শিবিরকে ধরাশায়ী করে আবার স্বমহিমায় ফিরেছে ঘাসফুল। আর এই নিয়েই বৃহস্পতিবার থেকেই শাসক- বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর রয়েছে তুঙ্গে।

জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোরে হলদিয়া পুরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বালার মোড় এলাকায় আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায় বিজেপির একটি অস্থায়ী পার্টি অফিস। এর ফলে ভিতরে থাকা একাধিক ছবি, ফ্লাগ, টেবিল, দরকারি কাগজপত্র সব কিছুই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। খোদ হলদিয়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান এর বাড়ির পাশে এমন ঘটনায় জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার সকালে আগুন লাগার খবর স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বরা জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয় তারা। ঘটনায় তখনও পর্যন্ত ওই পার্টি অফিসে আগুন জ্বলছিল বলে দাবি স্থানীয় নেতাদের। তবে বিজেপি নেতৃত্বরা ঘটনাস্থলে আসার আগেই আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায় পার্টি অফিসের ভিতরে থাকা যাবতীয় জিনিসপত্র। সদ্য উপনির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর হলদিয়া পুরসভার ৬নং নম্বর ওয়ার্ডে এমন ঘটনায় সমস্ত দায় তৃণমূলের দিকেই চাপাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বরা।

বিজেপির স্থানীয় নগর মন্ডল সভাপতি বিকাশ বারিকের অভিযোগ, “এলাকায় তৃনমুলের দুস্কৃতীরা রাতের অন্ধকারে সুযোগ বুঝে আগুন লাগিয়েছে। অফিসের কাঠামো, দরজা, প্রধানমন্ত্রীর ছবি, ফ্লাগ সব পুড়িয়ে দিয়েছে। আমরা অভিযোগ জানাবো এ ব‍্যাপারে”। তবে শীতের ভোরে এমন ঘটনা ঘটায় কোনও রকম আগুনের টের পাওয়া যায়নি বলে মত স্থানীয় এলাকাবাসীরদের। ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয় দুর্গাচক থানার পুলিশ।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, উপনির্বাচনে তৃণমূল তিনটি আসন জয় করার ফলেই এই ধরনের কান্ড ঘটাচ্ছে তৃণমূল। অবশ্য বিজেপির এই মতকে উড়িয়ে দিয়ে বিজেপির নিজস্ব গোষ্ঠী কোন্দলকেই পার্টি অফিসে মূল আগুন লাগার কারণ হিসেবে ধরছেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর সুধাংশু মন্ডল।

তিনি বলেন, “ওদের মন্ডল সভাপতি নির্বাচন নিয়ে নিজেদের গোষ্ঠীকোন্দল রয়েছে। আর তাই ওরা নিজেরাই নিজেদের পার্টি অফিসে আগুন লাগিয়েছে। আমাদের এখানে অবাধ গনতন্ত্র রয়েছে।” আগুন লাগার ঘটনায় রাজ্যের তিন উপনির্বাচনী ফলের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি নবারুণ নায়েক বলেন, ” তিন বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তৃণমূল জয়ী হয়ে ওরা ভেবে নিয়েছে আমরা মস্ত বড় কিছু করে ফেলেছি। ক্লাসের লাস্ট বয় কোনও দিন ফাস্ট হয়ে গেলে এমন আগুন লাগার ঘটনা তো ঘটবেই। তবে ২০২১ সালে আবার বিজেপি ফিরে আসবে।”

শুক্রবারের এই ঘটনায় বিজেপি- তৃণমূলের চাপানউতোর এখন তুঙ্গে। এর মাঝে কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।