স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: সদ্য শেষ হয়েছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পুজো। উমা কৈলাশে পৌঁছাতে না পৌঁছাতে মর্তে আগমন ঘটবে ধন-সম্পদের দেবী মা-লক্ষ্মীর। রাত পোহালেই ঘরে ঘরে পূজিত হবেন ধন-সম্পদের দেবী মা লক্ষ্মী। আর তাই দেবীর আরাধনা ঘিরে পুজোর জোগাড় করতে বাঙালির ব্যস্ততা এখন রয়েছে তুঙ্গে। যে যার সাধ্যমত করে লক্ষ্মীকে আরাধনা করবেন। ফলে শারদোৎসবের রেশ কাটিয়ে আরও এক বড় উৎসবে মাততে চলেছে আম বাঙালি। কিন্তু বাজারের যা অবস্থা তাতে পুজোর বাজার করতে গিয়ে ছ্যাঁকা খাওয়ার জোগাড় মধ্যবিত্ত বাঙালির।

শহর থেকে শহরতলি। বাদ নেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলাও। সর্বত্র লক্ষ্মী পুজোর আগে বাজার ঘুরলে একটাই চিত্র চোখে পড়বে ক্রেতাদের। সেটা হল দুর্গা পুজোর সময় তো বটেই আসন্ন লক্ষ্মী পুজোতেও ফল-সবজি, ফুলের বাজার বেশ গরম। কিন্তু কেন হঠাৎ করে ফল-ফুল থেকে শুরু কাঁচা সবজির বাজারে দামের এত আগুন। প্রশ্ন রয়েছে সবার মনে । উত্তর খুঁজে জানা গিয়েছে, এই মরশুমে সারা দেশের পাশাপাশি প্রবল বৃষ্টিতে ভিজেছে এই রাজ্যও। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং সঙ্গে যুক্ত ছিল বন্যার জল আর তাতেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলার চাষিদের বিঘার পর বিঘা ফসলের জমি কার্যত জলের তলায় চলে গিয়েছে।

এইবছর রাজ্যের নদী তীরবর্তী জেলাগুলিতে অতিরিক্ত বর্ষার কারনে বন্যা দেখা দিয়েছিল ফলে বন্যার জল চাষের জমিতে ঢুকে পড়ায় পুজোর আগেই জেলার বিভিন্ন গ্রামে চাষিদের প্রচুর শাক-সবজি, ফলমূল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি একই অবস্থা বাঁকুড়া জেলাতেও। জানা গিয়েছে, বিগত বর্ষায় অন্যান্য জেলার পাশাপাশি এই জেলাতেও ফসলের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে।

অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে চাষিরা জমি থেকে ফসল তুলতে না পারায় এই বছর বর্ষাকালে অনেক ফসল, ফুল এবং শাক সবজি জমিতেই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। যার ফলে এদিন লক্ষ্মী পুজোর বাজার করতে গিয়ে ফুল থেকে শুরু করে ফল শাক সবজির আকাশ ছোঁয়া দর দেখে ভিরমি খাওয়ার জোগাড় হয়েছে মধ্যবিত্ত আম-বাঙালির।

শনিবার বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন বাজার গুলিতে ফুল থেকে ফল শাক সবজি সবকিছুরই দর আকাশ ছোঁয়া। যা শুনে ছ্যাঁকা খাওয়ার অবস্থা মধ্যবিত্ত বাঙালির। এদিন বাঁকুড়া শহরে বাজার ঘুরে দেখা গিয়েছে, শহরের বিভিন্ন বাজারে কলা ৪০ টাকা ডজন, আপেল ৮০ থেকে ১০০ টাকা কিলো। ন্যাসপাতি ৮০ টাকা, লেবু ১০০ টাকা, নারকেল ৬০ টাকা প্রতিকেজি, পাতিলেবু ৬ টাকা জোড়া, বেগুন ৪০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ফুল কপি ৭০ টাকা এবং টম্যাটো ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অন্য দিকে ফুলের বাজারেও একই অবস্থা বলে জানা গিয়েছে। শনিবার এই জেলায় পদ্ম ফুল এক একটি ৬ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। শুধু তাই নয় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে লক্ষ্মী প্রতিমার মূর্তিও। সূত্রের খবর, শনিবার বাঁকুড়া জেলায় লক্ষ্মী প্রতিমা বিক্রি হয়েছে সর্বনিম্ম একশো টাকা দামে।

এদিন লক্ষী পুজোর বাজার করতে আসা স্থানীয় গৃহবধূ শ্যামলী পাত্র বলেন, ‘দামের কারণে পুজোর কেনা কাটায় রাশ টানতে হয়েছে এবার’। যতোটা না নিলেই নয় ঠিক ততোটাই তিনি কিনছেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে সোনামুখী এলাকার বাসিন্দা মহাপ্রসাদ মণ্ডল, মধুসূদন রায়রা বলেন, এই মুহূর্তে সব সবজির দাম ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তিনি আরও বলেন, পুজো উপলক্ষ্যে অনেক আত্মীয় স্বজন বাড়িতে রয়েছেন। কিন্তু অত্যধিক দামের কারণে বাজার থেকে এক প্রকার খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে।

একই অবস্থা ওই এলাকার নিত্যানন্দপুর বাজারের সব্জী ব্যবসায়ী রতন দাসেরও। তিনি বলেন, বর্ষার কারনে সব শাক-সবজির দাম বেড়েছে। ফলে বাজারে চাহিদাও এবার অনেক কমেছে বলে জানা গিয়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন পাঁচ হাজার টাকার কেনাবেচা হত এই পুজোর মরশুমে পৌঁছেও তা মাত্র দু’হাজারে ঠেকেছে বলে জানান তিনি। ধীরে ধীরে বর্ষা বিদায় নিতে শুরু করেছে। তবে এখনও ঠিক কবে থেকে শাক-সবজি, ফলের দাম কমবে সেই বিষয়ে পরিস্কার করে কিছু জানা যায়নি। সুতরাং এই বছর বাঙালিকে পকেটের দিকে একটু নজর রেখেই পুজোর আয়োজন করতে হচ্ছে। এছাড়াও লক্ষী প্রতিমা সর্বনিম্ন ১০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।