স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: ডুয়ার্স জুড়ে অশনিসংকেত ‌। মানুষ এবং বন্যপ্রাণীর সংঘাত প্রায় চরম পর্যায়ে। সমস্যা মূলত বুনো হাতিকে ঘিরেই। উত্তরবঙ্গের অরণ্যে হাতির সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। অথচ জঙ্গলের পরিসর যথেষ্ট সঙ্কুচিত। ডুয়ার্সের চা বাগান গুলির লোকালয়ে বুনো হাতির তান্ডব এখন রোজকার ঘটনা। এবার হাতির হামলা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করল চা বাগান মালিক পক্ষ।

বুধবার এই নিয়ে জলপাইগুড়ির অরণ্য ভবনে বন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করলেন ডিবিআইটিএর প্রতিনিধিরা। আর্জি ছিল হাতির হামলা সামলানোর। জলপাইগুড়ির বন্ধ ও পরিত্যক্ত চা বাগান গুলিতে বেড়ে ওঠা ঝোপঝাড়‌ এখন হাতিদের স্থায়ী আস্তানা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন‌ই অভিযোগ এনেছেন চা বাগান কর্তৃপক্ষেরা।

সূত্রের খবর, বুনো হাতির পাল প্রায় প্রতি রাতেই শ্রমিকদের আবাসন ভাঙছে। নষ্ট করছে খেতের ফসল। হাতির আক্রমণে বাগানের শেডট্রি সেচের পাইপ‌‌ও ধংস হচ্ছে বলে অভিযোগ বাগানের ম্যানেজারদের। ডুয়ার্সের হলদিবাড়ি, ডায়না, নিউ ডুয়ার্স, কারবালা,বিন্নাগুড়ি , চুনাভাটি , এবং মরাঘাট চা বাগানের বাসিন্দারা হাতির উপদ্রবে নাজেহাল। এদিকে এই নিয়ে শ্রমিকরা ক্ষেপে গেলে যে কোনও দিন আইন শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে বলে চা বাগান গুলির ম্যানেজারদের আশঙ্কা ।

যার ফলে হাতির হামলা নিয়ন্ত্রণে বুধবার বন দফতরের গরুমারা বন্যপ্রাণ ডিভিশনের ডিএফ‌ও নিশা গোস্বামীর সঙ্গে দেখা করে এই বিষয়ে জরুরী পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানালেন ডিবিআইটিএর প্রতিনিধিরা। ডুয়ার্সের বন্ধ রেডব্যাংক চাবাগান যে বুনো হাতির ডেরা হয়ে উঠেছে তা মেনে নিয়েছেন স্বয়ং ডিএফ‌ও। এদিকে দ্রুত এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় বনদফতর পদক্ষেপ করবে বলে বাগানের প্রতিনিধিদের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

ডুয়ার্সের অরণ্য জুড়ে বেড়ে চলা মানুষ এবং বন্যপ্রাণীর সংঘাতে লাগাম টানতে এখন‌ই কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি যে অচিরেই হাতের বাইরে চলে যেতে পারে সেই ইঙ্গিত কিন্তু স্পষ্ট।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প