স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: মজুরি দিন প্রতি মাত্র ১৩৫ টাকা। তাও আবার যেদিন কাজ মিলবে বা হাজিরা দিলে তবেই। ঝড় বৃষ্টি বা অসুস্থতার দিন গুলিতে কাটা যায় হাজিরা। মজুরি বাবদ যে কটা টাকা হাতে পাওয়া যায় তার থেকেই মাসে অন্তত দুটি করে ঝাড়ু কিনতে হয়। যেখানে নারকেলের একটা ঝাড়ুর খরচ পড়ে কম করে আশি টাকা। এত কিছুর মধ্যেও নিয়মিত মেলে না সেই মজুরি।

এমনই অসহায় অবস্থার মধ্যে এলাকা সাফাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বালুরঘাট পুরসভার শ্রমিকরা। পুরসভার বিরুদ্ধে নায্য ও নিয়মিত মজুরি না মেলায় অভিযোগ তুলে এবারে আন্দোলনে নামতে চলেছেন তাঁরা। অবিলম্বে নিয়মি ও নায্য মজুরির পাশাপাশি স্থায়ী করণের দাবিতে কর্মবিরতিতে নামার হুমকিও দিয়েছেন শ্রমিকরা।

সকাল ও বিকেলে দু-দুবার শহর পরিস্কার করে দিন প্রতি মজুরি মাত্র ১৫৫ টাকা। মহিলাদের ক্ষেত্রে তাও আবার মাত্র ১৩৫ টাকা। এই মজুরির টাকা থেকে সাফাইয়ের সরঞ্জাম ঝাড়ু ও অন্যন্য জিনিস নিজেদেরই কিনতে হয় শ্রমিকদের। এমনকি জঞ্জাল অপসারণের কাজে ব্যবহৃত পুরসভার ই-রিকশার চালকদেরও অবস্থা একই। তাঁদেরও মজুরি বাবদ পাওয়া ১৫৫ টাকা থেকেই গাড়ি সারাইয়ের খরচ মেটাতে হয়। অভিযোগ পূর্বতন পুরবোর্ডের সময় থেকে মজুরি বৃদ্ধি ও স্থায়ী করণের ব্যাপারে একাধিকবার আবেদন করা হলেও সেই ব্যাপারে কেউই কোনও উদ্যোগ নেয়নি। যদিও এই ব্যাপারে পুরসভার তরফে কেউ কোনও প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজি হয়নি।

সাফাই কর্মী বাসুদেব বাসফোর সোমবার অভিযোগ করে করে বলেন যে, ২০১৮ সালে পূর্বতন বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর রাজ্য সরকার কর্তৃক এসডিওকে চেয়ারম্যান ও তৃণমূলের দুই প্রতিনিধি অর্পিতা ঘোষ এবং শংকর চক্রবর্তীকে সদস্য মনোনীত করে পুরসভার কাজকর্ম পরিচালিত করা হচ্ছে। কিন্তু আজও তাঁদের অবস্থা যেই কে সেই। বাধ্য হয়েই এবার আন্দোলনে নামতে চলেছে অসহায় শ্রমিকেরা। এই বিষয়ে রূপরেখা তৈরির জন্য এদিন বৈঠকেও বসেছিলেন তাঁরা।