স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: জামাইকে খুন করে মৃতদেহ সিঁড়ির নিচে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠল শ্বশুরবাড়ির লোকের বিরুদ্ধে। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমন্ডি থানার বানিহারি এলাকার ঘটনা। ঘটনায় শ্বশুরবাড়ির ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মাটির খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়েছে মৃতদেহ। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,মৃত জামাইয়ের নাম সোহেল রানা (২২)। স্ত্রীর অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক জেনে ফেলায় অশান্তির জেরেই তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান। মৃতের বাড়ি কুশমন্ডি থানা খুঁটি পুকুর এলাকায়। বছর দেড়েক আগে স্থানীয় বানিহারি এলাকার রাজিয়া সুলতানা সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। দিল্লিতে শ্রমিকের কাজ করে বেশ কিছু দিন আগে জেলায় ফিরে শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে থাকতেন তিনি। অভিযোগ, স্ত্রীর অন্যের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক থাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই অশান্তি চলছিল তাঁদের মধ্যে। সেই অশান্তির জেরেই শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁকে খুন করে। এরপর ঘটনা লুকোনোর জন্য বাড়িরই সিঁড়ির নিচে মৃতদেহ পুঁতে রাখেন।

জানা গিয়েছে, খুনের পর স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা মৃতের বাড়িতে গিয়ে জানান যে, স্বামী অন্য কোনও মহিলাকে নিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় মৃতের পরিবারের পাশাপাশি বানিহারী গ্রামের বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। এরপর তাঁরা রাজিয়াকে জেরা করতে শুরু করেন। অভিযোগ জেরার মুখের সে খুনের কথা স্বীকার করে নেয়। এরপরেই অভিযোগের ভিত্তিতে কুশমন্ডি থানার পুলিশ শ্বশুরবাড়ির ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। জেরায় ধৃতরা স্বীকার করে নেয় যে সিঁড়ির নিচেই মৃতদেহ পুঁতে রাখা আছে।

এদিন বিকেলে শ্বশুর বাড়িরই সিঁড়ির তল থেকে মাটি খুঁড়ে জামাইয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিকেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশ বানিহারী গ্রামে সোহেল রানার শ্বশুর বাড়িতে মাটি খোঁড়া শুরু করে। প্রায় ঘন্টা দুইয়েকের প্রচেষ্টায় মাটির তলা থেকে উঠে আসে জামাইয়ের মৃতদেহ। খুনের সঙ্গে জড়িত ৫ জনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এই বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াংদেন ভুটিয়া জানিয়েছেন যে, গত ৩ মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিলেন সোহেল রানা। সোহেলের বাড়ির ও এলাকার বাসিন্দাদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা তার স্ত্রীকে জেরা করেন। পাশাপাশি পুলিশ ও ঘটনার তদন্ত শুরু করে জানতে পারে যে, শ্বশুরবাড়ির নিচে তার মৃতদেহ পুঁতে রাখা আছে। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্ভবত স্ত্রী অন্য কোনও পুরুষের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার কারণে এই খুন বলে মনে করা হলেও, ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।