শংকর দাস, বালুরঘাট: শুরু হল উত্তরপূর্ব ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেলা “বোল্লা মেলা”। হিন্দু মুসলিম ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ একযোগে এই মেলায় অংশ নেওয়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অন্যতম নজির চারশো’রও বেশি বছরের পুরাতন এই মেলা। দক্ষিণ দিনাজপুরের বোল্লা এলাকায় রক্ষাকালীর পুজোকে কেন্দ্র করেই চারদিন ব্যাপী এই মেলা আয়োজিত হয়ে থাকে।

ইতিহাসের রাজা গণেশ পঞ্চদশ শতাব্দীতে বাংলার ইলিয়াস শাহি রাজবংশকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এই বোল্লাকালীর মন্দিরে পুজো দিয়ে গিয়ে তবেই গৌড় সাম্রাজ্যের সিংহাসনে প্রথম বসেছিলেন। এমনকি ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির বিভিন্ন নথিপত্রেও বোল্লাকালীর পুজো ও মেলার উল্লেখ রয়েছে বলে ইতিহাস গবেষক সমিত ঘোষ জানিয়েছেন।

প্রতিবছর রাসপূর্ণিমার পরের শুক্রবার ‘বোল্লাকালী’ পুজোকে কেন্দ্র করে মেলা শুরু হয়। কালীমন্দিরের সামনেই মেলা প্রাঙ্গণে অবস্থিত মুসলিমদের ঈদগা ও দু-দুটি কবরস্থান রয়েছে। মসজিদ ও কবরস্থানের পবিত্রতা অক্ষুন্ন রাখতে দায়িত্বে থাকেন খোদ হিন্দুরাই। পাশাপাশি মুসলিমরাও কালীমন্দিরের পবিত্রতা অক্ষুন্ন রাখতে সদা তৎপর ভূমিকা পালন করেন।

মেলায় আগত মানুষের মনোরঞ্জনে সার্কাস যাত্রা, নাগরদোলা থেকে শুরু করে মনিহারী ও আসবাবপত্র, হোটেল রেস্টুরেন্ট এমনকি জামাকাপড় সহ অন্যান্য উপকরনের দোকানপাটও রয়েছে।

দিল্লি মুম্বাই ও প্রতিবেশী নেপাল ভুটান ও বাংলাদেশ থেকেও বহু মানুষ আসেন এই মেলায় অংশ নিতে। চার দিনের এই মেলায় দশ লক্ষেরও বেশি পুণ্যার্থীর আগমন ঘটে। নিরাপত্তার দায়িত্বে চারশোরও বেশি পুলিশ ও সিসি ক্যামেরায় নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।