তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পরিচালিত বাঁকুড়া পৌরসভার পৌরপ্রধান-উপ পৌরপ্রধানের দ্বন্দ প্রকাশ্যে এলো। রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শহরের রানীগঞ্জ মোড় থেকে চকবাজার পর্যন্ত হকার উচ্ছেদে নামেন উপ পৌরপ্রধান দিলীপ আগরওয়াল। আর এই ঘটনার বিরোধীতা করেছেন পৌরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত স্বয়ং।

সামনেই পৌরসভার ভোট। ক্রমবর্ধমান বিজেপিকে আটকে পৌরসভা দখল রাখাই তৃণমূলের কাছে এখন বড়সড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণে উচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশে এই মুহূর্তে দলের সব গোষ্ঠীকে এক সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাঁকুড়া শহরে দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে এলো। এই ঘটনায় যথেষ্ট বিস্মিত জেলা রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

জনৈক হকার বলেন, প্রতি রবিবার বাজার বন্ধের দিনে আমরা এখানে বসে ব্যবসা করি। পৌরসভার তরফে ওখানে না বসতে বলা হয়েছে। সমস্যার মধ্যে পড়লেও তারা বাধ্য হয়েই এটা মেনে নিচ্ছেন বলে তিনি জানান।

এদিন শহরের রাস্তার ফুটপাত দখল করে পসরা নিয়ে বসা ব্যবসায়ীদের তুলে দিয়ে উপপৌরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে লক্ষ্য করছি এক শ্রেণীর হকার রাস্তা দখল করে বসে পড়ছেন। ফলে রানীগঞ্জ মোড় থেকে চকবাজার পর্যন্ত ব্যাপক যানযটের সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি নিজেও এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন দাবী করে বলেন, একজন রোগী এদিন যানযটে আটকে পড়েছিলেন। বাজারের মধ্যে মানুষের যাতায়াতের যাতে কোনও অসুবিধা না হয় সেই কারণে এই হকার উচ্ছেদ অভিযান বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে প্রত্যেক রবিবার ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় বসে পড়া হকারদের উচ্ছেদ করতে পৌরসভা ধারাবাহিক অভিযান চালাবে বলেও তিনি জানান।

পৌরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত বলেন, আমি পৌরপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বলছি হকার উচ্ছেদ নিয়ে পৌরসভায় কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। দলের নির্দেশ রয়েছে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে কোথাও কোনও হকার উচ্ছেদ করা যাবে না। উপপৌরপ্রধান যা করছেন নিজের দায়িত্বে করছেন। বিষয়টি তিনি দলীয় নেতৃত্বকে জানাবেন বলে জানান।