স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: এখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার চলে বারোমাস। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের দ্বারকেশ্বর নদীর উপর দমদমি ঘাটে কোনও সেতু না থাকায় উলিয়াড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তত পনেরোটি গ্রামের মানুষের যাতায়তের অন্যতম ভরসা নৌকা। অসংখ্য ছাত্র ছাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন জীবন জীবিকার তাগিদে প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই কোন রকম যাত্রী সুরক্ষা ছাড়াই নৌকাতেই পারাপার করেন এখানে।

সম্প্রতি রাজ্যের পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় রুপনারায়ন নদীতে নৌকাডুবির ঘটনার পরেও হুঁশ ফেরেনি প্রশাসনের। লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই নৌকাতেই যাতায়াত করছেন সাইকেল, মোটরবাইক সহ মানুষ। এলাকার মানুষের অভিযোগের খবর পেয়ে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধির পৌঁছে যায় দ্বারকেশ্বরের দমদমি ঘাটে। ওখানে গিয়েই মানুষের অভিযোগের প্রমাণ ধরা পড়ে তাদের ক্যামেরায়।

সূত্রের খবর, এলাকার মানুষ জানিয়েছেন, উলিয়াড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় পনেরটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন এই নদীপথ দিয়েই বাঁকুড়া জেলার মহকুমা শহর বিষ্ণুপুরে যান। গ্রীষ্মকালে হাঁটু জল থাকলেও বছরের বেশীরভাগ সময় দ্বারকেশ্বরে প্রচুর পরিমানে জল থাকায় নিত্য যাত্রীদের নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা নৌকা।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন বাগদী বলেন, যাত্রী সুরক্ষার কোনও ব্যবস্থা নেই এখানে। তিনি আরও বলেন, প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই তাঁরা প্রতিদিনই নৌকাতেই সওয়ার হন। শুধু তাই নয়, নৌকায় নদী না পেরোতে চাইলে প্রায় ছ’-সাত কিলোমিটার ঘুরে তবেই বিষ্ণুপুর শহরে পৌঁছাতে হয় মানুষদের। অমিত ভুঁই নামে এক ছাত্র বলেন, ‘যাতায়াতের ভরসা একমাত্র নৌকাই’। ‘বিশেষত বর্ষায় নদীতে যখন প্রচুর জল থাকে তখন সমস্যা আরও তীব্র হয়’। তবুও প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হয় তাঁদের।

যাত্রীদের এই যন্ত্রনা থেকে মুক্তি দিতে পারে যদি দ্বারকেশ্বর নদীর দমদমি ঘাটে একটি স্থায়ী পাকা সেতু তৈরী হয়। এমনই দাবী জানিয়েছেন এই নদী পেরিয়ে নিত্য যাতায়াতকারী যাত্রীরা। এই বিষয়ে নৌকা চালক রেজাউল মল্লিক বলেন, দু’বছরের জন্য ১৬ লাখ টাকায় এই ঘাটের ডাক রয়েছে। ছাত্র ছাত্রীদের মাত্র এক টাকা ও অন্যান্য সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের তিন টাকার বিনিময়ে তারা পারাপার করেন। যাত্রী সুরক্ষা বিষয়ে প্রশাসনের তরফে তাদের কোনও নির্দেশ বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়নি।

তিনি দাবী করে বলেন, দূর্ঘটনা যেকোনও সময় ঘটতেই পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই তারা নৌকায় তাদের পারাপার করেন বলে তিনি জানান।

বিষ্ণুপুর মহকুমাশাসক মানস মণ্ডল বলেন, এই বিষয়ে বিষ্ণুপুর পঞ্চায়েত সমিতিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সভায় ডাকা হয়েছে। ওই নদীপথে যাত্রী সুরক্ষার কথা ভেবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। তা না নিলে ওই এলাকায় নৌকা চলাচল প্রশাসন বন্ধ করে দেবে বলেও তিনি জানান।