স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: ২০২০ সালে বাঁকুড়া পৌরসভায় ভোট। তার আগে শাসক দলের দখলে থাকা এই পৌরসভার চেয়ারম্যান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্তের সঙ্গে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর তথা দলের জেলা সহ সভাপতি নীলাদ্রি শেখর দানার প্রকাশ্যে বচসার সাক্ষী থাকল শহরবাসী। দোষারোপ- পাল্টা দোষারোপে কিছুক্ষণের জন্য সরগরম হয়ে ওঠে পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা।

জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া পৌরসভার চেয়ারম্যান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত শুক্রবার ওই ওয়ার্ড পরিদর্শনে যান। এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগের কথাও তিনি শোনেন। এই ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে যান বিজেপির কাউন্সিলরও। সেখানেই ওয়ার্ডবাসী ও সংবাদমাধ্যমের সামনে উন্নয়ন ও অনুন্নয়নের তরজায় মেতে উঠলেন শাসক-বিরোধী দলের এই দুই শীর্ষ স্থানীয় নেতা। এলাকার উন্নয়ন, নিকাশি ব্যবস্থার বেহাল দশা সহ একাধিক বিষয় নিয়ে একে-অপরকে দোষারোপ করতে ছাড়েনি দুই পক্ষের কেউই।

প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে দীর্ঘদিন তৃণমূলের দখলে থাকা বাঁকুড়া পৌরসভায় পিছিয়ে রয়েছে বিজেপি। তার আগে ২০১৬ সালের বিধিনসভা নির্বাচনেও বাঁকুড়া কেন্দ্রটি সরকারীভাবে তৃণমূলের হাতছাড়া হয়ে যায়। তখন ওই কেন্দ্রে বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী হিসেবে শম্পা দরিপা জেতেন। যদিও পরে তিনি শাসক শিবিরেই নাম লিখিয়েছেন। বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রটি নিজেদের দখলে আনার পাশাপাশি পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডেই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। এই অবস্থায় পৌরসভা দখলের লক্ষ্যে অতি উৎসাহী বিজেপি যেমন ভোটের রণকৌশল তৈরীতে ব্যস্ত, তেমনি শাসক দল তৃণমূলও নিজেদের গড় রক্ষায় উঠে পড়ে লেগেছে।

এদিন পরে বিজেপি কাউন্সিলর ও দলের বাঁকুড়া জেলা সহ সভাপতি নীলাদ্রী শেখর দানা বলেন, সাড়ে চার বছরের মধ্যে একবারও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে চেয়ারম্যানকে দেখা যায়নি। এখন ভোটের আগে উনি এলাকায় এসেছেন। এই ওয়ার্ডটি বিরোধীদের দখলে থাকায় ‘গায়ের জোরে’ কোন উন্নয়নমূলক কাজ করতে দেওয়া হয়নি বলে তার অভিযোগ।

একই সঙ্গে তার অভিযোগ, ‘উন্নয়নের নামে দ্বিচারিতা ও ভণ্ডামি, লুঠতরাজ চলছে’। তার এলাকায় পানীয় জল, রাস্তা, আলো, পুকুর সংস্কার সহ অন্যান্য বিষয়ে পৌরপ্রধানকে লিখিত আবেদন জানিয়েও বিরোধী দলের দখলে এই ওয়ার্ড থাকার কারণে কোনও কাজ হয়নি। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, লোকসভা ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে শাসক দল ভয় পেয়েছে। তাই চেয়ারম্যান রাস্তায় নেমেছেন।

অন্যদিকে চেয়ারম্যান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত এদিন ২৪ টি ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনছেন। তিনি দাবী করে বলেন, বিজেপির দখলে থাকা ১৬ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা কোনও কাজ করেননি। মানুষের ন্যূনতম পরিষেবার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরকে অধিকার দেওয়া আছে। পর্যাপ্ত শ্রমিক তাদের হাতে আছে। তবুও নিকাশী নালা সংস্কার, পাইপ লাইন মেরামতের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি ওরা করেননি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের জন্য আলাদা করে ঘোরার বা প্রচারের দরকার নেই, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দু’হাত ভরে বাঁকুড়ার উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছেন। সেই মতনই কাজ হয়েছে। মানুষ জানেন কারা কাজ করেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ওরা দিবা স্বপ্ন দেখুক, দিবাস্বপ্ন দেখা ভালো’। বিজেপির পৌরসভা দখলের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে দাবী করে বলেন, যে দুটি ওয়ার্ড ওদের হাতে আছে সেগুলোও এবার হাতছাড়া হবে। সবমিলিয়ে ২০২০ সালের পুর ভোটের আগে শাসক-বিরোধী তরজা জমে উঠেছে বাঁকুড়া জেলায়।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV