নয়াদিল্লি: সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে নয়া কীর্তি৷ নজির গড়ে রেকর্ড সংখ্যক মহিলা সাংসদ পেতে চলেছে দেশ৷

১৯৫২ সালে প্রথম লোকসভা গঠনের পর সংসদে ২৪ জন মহিলা সাংসদের প্রবেশ ঘটে৷ তারপর প্রতিটা নির্বাচনে এই সংখ্যা বাড়তেই থাকে৷ সপ্তদশ লোকসভায় ৫৪২ জন নির্বাচিত সাংসদদের মধ্যে মহিলা সাংসদের সংখ্যা ৭৮৷ অর্থাৎ ১৪ শতাংশ এবার মহিলা সাংসদ৷ যা রেকর্ড বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা৷ এর আগে ষোড়শ লোকসভা নির্বাচনে ৬৪ জন মহিলাকে জিতিয়ে সংসদে পাঠিয়েছিল ভোটাররা৷ পঞ্চদশ লোকসভার সময় মহিলা সাংসদদের সংখ্যা ছিল ৫২৷ অর্থাৎ সংসদে মহিলা সাংসদদের হার ক্রমশ উর্ধ্বমুখী৷

সংসদে অধিক সংখ্যক মহিলা সাংসদ পাঠানোর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপ্রদেশ৷ এই দুই রাজ্য থেকে ১১ জন করে মহিলা সাংসদ পেয়েছে দেশ৷ অধিক সংখ্যক মহিলাদের প্রার্থী করার ক্ষেত্রে কম বেশি সব দলই এবার সদর্থক ভূমিকা নেয়৷ যেমন বিজেপি এবার ৫৩ জন মহিলাকে প্রার্থী করে৷ কংগ্রেস ৫২ জন মহিলাকে টিকিট দেয়৷ মহিলাদের প্রার্থী করার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক দলগুলির মধ্যে বহুজন সমাজ পার্টি ও তৃণমূল কংগ্রেসের নাম সবার আগে উঠে আসবে৷ এই দুই দলই যথাক্রমে ২৪ ও ২৩ জন মহিলাকে প্রার্থী করে৷ তার জেরেই বাংলা ও উত্তরপ্রদেশ সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নিতে পারে৷

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে মোট ৮ হাজার ৪৯ জন প্রার্থী ভোটে দাঁড়ায়৷ তার মধ্যে মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৭২৪ জন৷ এই সংখ্যাটাকে আরও ভাঙলে দেখা যাবে ২২২ জন স্বাধীনভাবে ভোটে দাঁড়ান৷ উত্তরপ্রদেশ সবথেকে বেশি মহিলা প্রার্থীদের দাঁড় করায়৷ পরিসংখ্যান বলছে যোগীর রাজ্য থেকে ১০৪ জন মহিলা ভোটে প্রার্থী হন৷ তারপরেই আছে মহারাষ্ট্র৷ ৬৪ জন মহিলা প্রার্থী দিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে আসে তামিলনাড়ু৷ ৫৫ ও ৫৪ জন মহিলাদের প্রার্থী করে তালিকায় চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে উঠে আসে বিহার ও বাংলা৷ অর্থাৎ কম প্রার্থী দিয়ে রেকর্ড সংখ্যক মহিলা প্রার্থী সংসদে পাঠিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ৷