নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের গল্পের মতোই হতে পারত চান্দুর জীবনের গল্পটাও৷ কিন্তু বাস্তবে জীবন অন্যরকমই কিছু ভেবে রেখেছিল তাঁর জন্য৷ আর তাই মাত্র ২৫ বছর বয়সেই কনিষ্ঠতম মহিলা সাংসদ হিসেবে নাম উঠে এল তাঁর৷

বিজু জনতা দলের টিকিটে কেওনঝড় থেকে লড়ে বিজেপির সাংসদ অনন্ত নায়েককে ৬৭,৮২২ ভোটের মার্জিনে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় চন্দ্রাণী মুর্মু৷ পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের কাছে চন্দ্রাণী অবশ্য হীরা এবং চান্দু নামেই পরিচিত৷ শুধু বিজেপি প্রার্থীকে হারানোই নয়, সেই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে সাংসদ হিসেবে তাঁর কাজের পরিকল্পনাও চন্দ্রাণী করে নিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে৷

কনিষ্ঠতম সাংসদ হিসেবে তাঁর প্রতিক্রিয়া, এটা তাঁর কাছে গল্পের মতোই৷ চন্দ্রাণী জানান, তিনি সরকারি চাকরির জন্যই চেষ্টা করছিলেন আর তারই মাঝে তিনি ঢুকে পড়েন রাজনীতির আঙিনায়৷ নির্বাচনে লড়ারও প্রস্তাব তাকে দেওয়া হয়৷ কীভাব কখন এসব ঘটে গেল তা নিয়ে তিনিও আশ্চর্য যথেষ্টই৷ তাঁর মতে, ভগবানের ইচ্ছেতেই এমনটা হয়েছে৷

২০১৭ সালে চন্দ্রাণী ভুবনেশ্বর থেকে বি-টেক সম্পূর্ণ করেন৷ এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এরপরই তিনি সরকারি চাকরির চেষ্টা করতে থাকেন৷ মার্চে তাঁর এক আত্মীয়, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী এবং বর্তমানে কেওনঝড়ের এক সমাজকর্মী হরমোহন সোরেন তাঁকে লোকসভা নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা বলেন৷ যদিও তখন সেই বিষয়টি নিয়ে বেশি ভাবেননি চন্দ্রাণী৷ তবে হরমোহন সোরেন বিষয়টি নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করেই বিজেডির টিকিটে তাঁকে লড়াইয়ে নামার কথা বলেন৷ জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ থেকে পড়াশোনা এবং সেই সঙ্গে তাঁর প্রচেষ্টাতে জয় লাভ করেন চন্দ্রাণী৷

তিনি জানান, ২ এপ্রিল তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়৷ এবং ২৩ মে জনসাধারণের সমর্থনে তিনি বিজেপির ‘অনন্ত স্যার’কে হারিয়ে জয় লাভ করেন৷ চন্দ্রাণী মুর্মুর বাবা সঞ্জীব মুর্মুও একজন সরকারি কর্মী৷ এবং চন্দ্রাণীর মা উর্বশী আইসিডিএস বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মী৷ চন্দ্রাণী জানান, দাদু হরিহর সোরেন ছাড়া তাঁর পরিবারে কেউই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়৷ দাদুর কারণেই তাঁর মধ্যে রাজনীতির সেন্স এসেছে বলে মনে করেন এই কনিষ্ঠতম সাংসদ৷ কনিষ্ঠতম সাংসদ হিসেবে তিনি সিনিয়রদের থেকে শেখার এবং তার সেরা কাজ দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান চন্দ্রাণী৷ সব মিলিয়ে চন্দ্রাণী, তাঁর পরিবার এবং ঘনিষ্ঠজনেরা খুবই উচ্ছ্বসিত৷