ইতালি : ফের মহাকাশে নতুন করে ছ’টি ছায়াপথের সন্ধান দিলেন জ্যাোতির্বিজ্ঞানীরা। সেই সঙ্গে এক বিলিয়ন বছরেরও কম সময়ের মধ্যেএকটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের আবিষ্কার করেছেন তাঁরাা।

ইতালীয় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের (আইএনএএফ) গবেষকরা জানিয়েছেন, মহাবিশ্ব সৃষ্টির পর এই প্রথম কোনও ঘনিষ্ঠ গ্রুপিংয়ের দেখা মিলেছে।

জানা গিয়েছে,মহাবিশ্ব শুরুর প্রথম দিকে উদ্ভূত এই কৃষ্ণগহ্বরের প্রথম তারাগুলির ধ্বংসের সময় থেকেই গঠিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

তবে এখনও অবধি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানেন না যে ওই তারা গুলি কীভাবে এত বড় হল। যা এক বিলিয়ন সূর্যের আকারের মতো।

জানা গিয়েছে, সুপারম্যাসিভ কৃষ্ণগহ্ববরের চারপাশের ছায়াপথগুলি ইউরোপীয় দক্ষিন ইএসও খুব বড় দূরবীন (ভিএলটি) দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল।

গ্যালাক্সির এই সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের সাহায্যে তারা গুলি ওয়েবের মতো আকারে বেড়ে ওঠে যা তাদের জ্বালানির জন্য প্রচুর পরিমাণে গ্যাস সৃষ্টি করে।

সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলগুলি বহিরাগত, অদ্ভুত এবং তুলনামূলকভাবে সাধারণ মহাজাগতিক ঘটনা। এছাড়াও এগুলি সাধারণত মিল্কিওয়ে সহ বেশিরভাগ ছায়াপথের কেন্দ্রে অবস্থিত হয়।

আইএনএএফ-এর জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং গবেষণা পএের প্রধান লেখক মার্কো ম্যাগনোলি বলেছেন, “এই গবেষণাটি প্রথম মহাবিশ্বের সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলগুলি বোঝার জন্য করা হয়েছিল।এগুলির চূড়ান্ত অবস্থা এবং তাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে আমাদের কাছে এখনও পর্যন্ত কোনও সঠিক ব্যাখ্যা জানা নেই,।”

এই কৃষ্ণগহ্ববরের চারপাশের সমস্ত ছায়াপথগুলি গ্যাসের একটি মহাজাগতিক ‘মাকড়সার জালের’ মত যা মিল্কিওয়ের আকারের চেয়ে ৩০০ গুণ বড়ো ছিল বলে জানা গিয়েছে ।

‘মহাজাগতিক ওয়েব ফিলামেন্টগুলি দেখতে অনেকটা মাকড়সার জালের মতো জ্যোতির্বিজ্ঞানী ম্যাগনোলি আরও বলেছিলেন, ‘ছায়াপথগুলি যেখানে সৃষ্টি হয় সেখানে মাকড়সার ওয়েব থ্রেড গুলি বৃদ্ধি পাই।

‘গ্যাসের স্রোত – গ্যালাক্সি এবং কেন্দ্রীয় সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল উভয়ই জ্বালানীর জন্য পাওয়া যায় যেগুলি এই ফিলামেন্টের সঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে।’

মনে করা হয়, যখন মহাবিশ্ব ৯০০ মিলিয়ন বছরের প্রাচীন ছিল তখন থেকেই পৃথিবীতে এই ধরণের ব্ল্যাক হোল গুলি ছিল।

অদৃশ্য ‘ডার্ক ম্যাটার’ এর এই বৃহৎ অঞ্চলগুলি মহাবিশ্বের প্রথমদিকে প্রচুর পরিমাণে গ্যাসকে আকর্ষণ করবে বলে মনে করা হয়।

কৃষ্ণ গহ্বরগুলি এত ঘন এবং তাদের মহাকর্ষীয় টান এতই শক্তিশালী যে কোনও ধরণের বিকিরণ এগুলি এড়াতে পারে না – এমনকি আলোও নয়।

এগুলি মহাকর্ষের তীব্র উত্স হিসাবে কাজ করে যা তাদের চারপাশে ধূলিকণা এবং গ্যাসকে আবদ্ধ করে। তাদের তীব্র মাধ্যাকর্ষণ টান চারপাশে গ্যালাক্সির কক্ষপথের তারাগুলি বলে মনে করা হয়।

এগুলি কীভাবে গঠিত হয় তা এখনও সঠিক ভাবে বোঝা যায়নি। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে, সূর্যের চেয়ে ১০ লক্ষ গুণ বড় গ্যাসের মেঘ যখন একটি কৃষ্ণগহ্বরে পরিনত হয় তখন তারা এই ধরনের ব্ল্যাক হোল গঠন করতে পারে।

এর মধ্যে অনেকগুলি ব্ল্যাকহোল তখন আরও বড় আকারের সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল তৈরি করে, যা প্রতিটি পরিচিত বিশাল ছায়াপথের কেন্দ্রে পাওয়া যায়।

বিকল্পভাবে, একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল দৈত্যাকৃতির নক্ষত্র থেকে সূর্যের ভর থেকে প্রায় ১০০ গুণ কাছে আসতে পারে যা জ্বালানী ফুরিয়ে যাওয়ার পরে এবং ধসে পড়ার পরে অবশেষে একটি কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হয়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এই দৈত্যাকার নক্ষত্রগুলি যখন মারা যায় তখন সেগুলি ‘সুপারনোভা’তে পরিণত হয়ে যায়। এটি একটি বিশালাকার বিস্ফোরণ। যার ফলে তারাটির বাইরের স্তর থেকে গভীরে বিশালকার গর্ত বা খাদের সৃষ্টি করে।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।